ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) এর সদর দফতর, ঢাকা কেন্দ্র এবং ইআরসি, ঢাকার যৌথ উদ্যোগে ‘দোয়া ও ইফতার মাহফিল’ শনিবার (১৪ মার্চ) বিকাল ৪:০০ ঘটিকায় আইইবি মিলনায়তন, রমনা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাকারিয়া তাহের এমপি, মাননীয় মন্ত্রী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। আইইবি আয়োজিত পবিত্র মাহে রমজানের দোয়া ও ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রিত হয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত, আয়োজকদের জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। বর্তমান বাংলাদেশের দৃশ্যমান উন্নয়নের কারিগর আমাদের প্রকৌশলী সমাজ। সড়ক ও সেতু থেকে শুরু করে বড় বড় স্থাপনা নির্মাণে আপনারা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আগামী দিনে একটি উন্নত ও টেকসই বাংলাদেশ বিনির্মাণে আপনাদের এই বলিষ্ঠ ভূমিকা ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশাবাদ ব্যক্ত করি।
দোয়া ও ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মীর শাহে আলম, এমপি, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন আমাদের দেশের সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরাই সাধারণত ইঞ্জিনিয়ার বা ডাক্তার হিসেবে গড়ে ওঠেন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, আমাদের বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেখানে মেধাক্রমের প্রথম সারিতে না থেকেও অনেকে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে বড় বড় নীতি-নির্ধারণী পদে আসীন হচ্ছেন। ফলে কারিগরি ক্ষেত্রগুলোতে অকারিগরি জনবল পদায়নের কারণে নানা ধরনের প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। সুষ্ঠু উন্নয়নের স্বার্থে কারিগরি পদে অবশ্যই কারিগরি জনবল পদায়ন করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারে যে অঙ্গীকার করেছেন, নির্বাচনের কালি শুকানোর আগেই তার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সেই ইশতেহারের পূর্ণ প্রতিফলনে এবং একটি উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে কারিগরি পেশাজীবীদের যথাযথ মূল্যায়ন ও সঠিক স্থানে পদায়ন এখন সময়ের দাবি।
দোয়া ও ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আহম্মদ সোহেল মনজুর, এমপি, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। তিনি বলেন বিভিন্ন পেশাজীবী এসোসিয়েশন সবসময়ই নানা সীমাবদ্ধতা ও সমস্যার সম্মুখীন হয়। প্রকৌশলীদের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর বিষয়ে আমি অত্যন্ত আশাবাদী যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এগুলো বিবেচনা করবেন এবং প্রয়োজনীয় সমাধান দেবেন। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতকে আরও শক্তিশালী করার জন্য আমি সকল প্রকৌশলী ভাই-বোনদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।
দোয়া ও ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রকৌশলী মো. আশরাফ উদ্দিন (বকুল), এমপি, মাননীয় সংসদ সদস্য, নরসিংদী-৫ (রায়পুরা)। তিনি বলেন প্রকৌশিলারা সবসময় অবহেলিত বিগত ১৭ বছর ধরে অবহেলিত ছিলাম এবং এখনো আছি। ১৭ বছর ধরে যারা আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন তাদেরকে এখন মূল্যায়ন করতে হবে। ফ্যাসিস্ট সময়ে আমাদের প্রকৌশলীরা চাকরি হারিয়েছেন তারা এখনো পর্যন্ত নিয়োগ পাইনি। এগুলোকে উল্লেখ করে তিনি যার যার অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান।
দোয়া ও ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন, আহ্বায়ক, এসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এ্যাব)। তিনি সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চান মেধার ভিত্তিতে দেশ গড়তে । তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, প্রকৌশল খাতের বিশেষায়িত কারিগরি পদগুলোতে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের পরিবর্তে সচিব বা অকারিগরি জনবল নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে উন্নয়ন প্রকল্পের গতি শ্লথ হয়ে যাচ্ছে এবং কারিগরি জটিলতা বাড়ছে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট সবিনয় আহ্বান জানাচ্ছি—মেধার সঠিক মূল্যায়ন এবং কাজের গতিশীলতা নিশ্চিত করতে কারিগরি খাতে প্রকৌশলীদেরই যোগ্য স্থানে পদায়ন করা হোক। তিনি এই বিষয়টি অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে প্রকৌশলীদেরকে তাদের অবস্থান দেওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানান।
উক্ত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম (রিজু), প্রেসিডেন্ট, আইইবি। তিনি বলেন প্রকৌশলীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আইইবি সর্বদা কাজ করছে শুধু তাই নয় আসলে কি কি কাজ করে সেই সকল বিষয়গুলো তিনি প্রধান অতিথিকে জানানোর জন্য সেমিনারের আয়োজন করার জন্য অঙ্গীকার করে শেষ করেন।
স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন, প্রকৌশলী মো. আহসানুল রাসেল, সম্মানী সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আইইবি। তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর মূল শিকড় প্রোথিত ব্রিটিশ শাসনামলে। ভারত বিভক্তির পর ১৯৪৮ সালের ৭ই মে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে এর শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়, যার নাম ছিল ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, পাকিস্তান। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার পর সংগঠনটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)। সংগঠনটির ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হলো ১৯৭৯ সাল। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আইইবি মিলনায়তনটি উদ্বোধন করেন, যা তখন ‘জিয়া অডিটোরিয়াম’ নামে পরিচিত ছিল। এটি প্রকৌশলীদের মিলনমেলা ও মেধা চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে ভূমিকা পালন করে আসছে। আইইবি’র একটি স্বায়ত্তশাসিত ও গৌরবোজ্জ্বল প্রতিষ্ঠান হলো ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফ কলেজ, বাংলাদেশ (ইএসসিবি)। প্রকৌশলীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৪ সালে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার চর বাউশিয়ায় এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রায় ২৩.৫ একর বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই আবাসিক ট্রেনিং ক্যাম্পাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার ঐকান্তিক আগ্রহ ও বিশেষ আর্থিক সহযোগিতায় এই নান্দনিক ও আধুনিক শিক্ষাঙ্গনটি গড়ে ওঠে।
উক্ত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন, আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী এ.টি.এম. তানবীর-উল হাসান (তমাল) ভাইস-প্রেসিডেন্ট (প্রশাসন ও অর্থ) আইইবি এবং সঞ্চালনা ছিলেন, আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী কে. এম. আসাদুজ্জামান, সম্মানী সম্পাদক, ঢাকা কেন্দ্র, আইইবি।
উক্ত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে আলো বক্তব্য রাখেন, প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন তালুকদার, চেয়ারম্যান, আইইবি ঢাকা কেন্দ্র এবং প্রকৌশলী খান আতাউর রহমান সান্টু, ভাইস-চেয়ারম্যান ইআরসি, ঢাকা।
উক্ত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, প্রকৌশলী খান মনজুর মোরশেদ, ভাইস-প্রেসিডেন্ট (একাডেমিক ও আন্তর্জাতিক) আইইবি, প্রকৌশলী শেখ আল আমিন, ভাইস-প্রেসিডেন্ট (এইচআরডি) আইইবি, প্রকৌশলী নিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া, ভাইস-প্রেসিডেন্ট (এসএন্ডডব্লিউ) আইইবি, প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহবুব আলম, সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক (একাডেমিক ও আন্তর্জাতিক) আইইবি, প্রকৌশলী মো. নূর আমিন, সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এইচআরডি) আইইবি, প্রকৌশলী সাব্বির আহমেদ ওসমানী, সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এসএন্ডডব্লিউ) আইইবি। আরও উপস্থিত ছিলেন, প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন, ভাইস-চেয়ারম্যান, (একাডেমিক এন্ড এইচআরডি) ঢাকা কেন্দ্র, প্রকৌশলী মো. কামরুল হাসান (উজ্জল), ভাইস-চেয়ারম্যান (এডমিন. প্রফেশনাল এন্ড এসডব্লিউ), ঢাকা কেন্দ্র, প্রকৌশলী মো. শাহীন হাওলাদার, চেয়ারম্যান, কম্পিউটারকৌশল বিভাগ, আইইবি, প্রকৌশলী রবিউল আলম উজ্জ্বল, কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য, আইইবি, প্রকৌশলী মোতাহার হোসেন, চেয়ারম্যান, তড়িৎকৌশল বিভাগ, আইইবি, প্রকৌশলী আলমগীর হাসিন আহমেদ, কেন্দ্রী কাউন্সিল সদস্য, আইইবি, প্রকৌশলী সরদার আনিছুর রহমান রানা, চেয়ারম্যান, রাজশাহী কেন্দ্র, আইইবি, প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ (সেলিম), চেয়ারম্যান, টেক্সটাইলকৌশল বিভাগ, আইইবি, প্রকৌশলী মো. কামরুল হাসান খান, সম্পাদক, যন্ত্রকৌশল বিভাগ, আইইবিসহ আইইবি প্রকৌশল বিভাগ, আইইবি প্রকৌশল চ্যাপ্টার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীবৃন্দ।