মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান কঠোর অবস্থান নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, কৌশলগত তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী তাদের শত্রুদের জন্য বন্ধ হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার (১৬ মার্চ) এক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক তেল রুট হরমুজ প্রণালী খোলা থাকলেও তা ইরানের শত্রু ও তাদের মিত্রদের জন্য বন্ধ। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, প্রণালীটি খোলা, তবে যারা আমাদের বিরুদ্ধে কাপুরুষোচিত আগ্রাসন চালিয়েছে এবং তাদের মিত্রদের জন্য এটি বন্ধ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি আরও জানান, ইরান প্রমাণ করেছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত, সেটা যত দীর্ঘই হোক না কেন। তিনি দাবি করেন, এই মুহূর্তে মার্কিন ও ইসরায়েলি পক্ষ একটি ভালো শিক্ষা পেয়েছে এবং তারা বুঝতে পেরেছে ইরানি জাতি কেমন। তিনি বলেন, ইরানিরা এমন এক জাতি যারা আত্মরক্ষা করতে দ্বিধা করে না; যারা প্রস্তুত থাকে যে কোনো স্থানে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে যত দূর পর্যন্ত তা প্রয়োজন হয়।
এদিকে ইরানের এই হুঁশিয়ারির প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, যদি মার্কিন মিত্ররা হরমুজ প্রণালী খুলতে সহায়তা না করে, তাহলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ‘খুব খারাপ’ হবে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান শেষ পর্যন্ত সমঝোতা চায়, তবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে তারা এখনো প্রস্তুত নয়।
ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি কোনো এক সময়ে তারা সমঝোতা করবে। ইরানের পুরো পরিস্থিতির ক্ষেত্রে আমরা খুব ভালো করছি। তিনি হরমুজ প্রণালী পাহারা দেওয়ার ব্যাপারে অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনার কথাও জানান।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে ব্রিটেন নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর এই অঞ্চলে বিস্তৃত যুদ্ধে যুক্তরাজ্য জড়াবে না। তার দেশের অগ্রাধিকার হচ্ছে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ প্রতিদিন হরমুজ প্রণালী হয়ে পরিবাহিত হয়। এই প্রণালী কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।