খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে রাশিকুল আনাম রাসু (৩৬) নামে এক যুবদল নেতা নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রকাশ্য দিবালোকে নগরীর দৌলতপুর কেডিএ কল্পতরু মার্কেটে এ হত্যাকান্ড ঘটে। নিহত রাসু খুলনার দৌলতপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, মহানগর যুবদল নেতা এবং নগরীর দেয়ানা উত্তরপাড়ার ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি শরিফুল আনামের ছেলে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, রাশিকুল আনাম রাসু দৌলতপুর কল্পতরু মার্কেটে ইট-বালুর ব্যবসা করতেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি দোকানে ছিলেন। দোকানের পেছনে তার ম্যানেজার শাকিল ও জনি নামে আরেকজন ক্যারম বোর্ড খেলছিলেন। হঠাৎ তিনজন যুবক হেঁটে এসে জনির কাছে জিজ্ঞাসা করেন রাসু কোথায়। জনি তাদের জানান, তিনি দোকানে আছেন। এ কথা বলতেই তারা দোকানে ঢুকে রাসুকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলি করে। একটি গুলি তার মাথায় ও আরেকটি ঘাড়ে বিদ্ধ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দে আতঙ্কে কল্পতরু মার্কেটের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরে ঘাতকরা কিছু দূরে রাখা লাল রঙের একটি আরটিআর মোটরসাইকেলে করে কৃষি কলেজের দিকে যায়। সেখানে রাস্তা বন্ধ থাকায় তারা মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে আড়ংঘাটার দিকে চলে যায়। এরপর স্থানীয়রা রাসুকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খুমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আশরাফ বলেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর আগেই রাশিকুল আনাম রাসুর মৃত্যু হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সিসি টিভির ফুটেজ দেখে ঘাতকদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
কেএমপির উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন রায় বলেন, সিসি টিভি ফুটেছে দেখা গেছে হত্যাকান্ডে তিনজন যুবক অংশ নিয়েছে। তারা একটি মোটরসাইকেলে এসেছিল। খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সহসভাপতি ও কেসিসির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত গোলাম রব্বানী টিপুর দেহরক্ষী আলামিনকে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। দুই-তিন মাস আগে রাসু এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আলামিনকে অস্ত্র, গুলিসহ পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেন। ধারণা করা হচ্ছে, এর জের ধরে আলামিনের সহযোগীরা তাকে হত্যা করেছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা মোটরসাইকেলের সূত্র ধরে খুব দ্রুত ঘাতকদের গ্রেপ্তার করতে পারব।
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা বলেন, রাশিকুল আনাম রাসু আগে মহানগর ছাত্রদলের নেতা ছিলেন। প্রকাশ্য দিবালোকে সন্ত্রাসীরা একজন মানুষকে হত্যা করবে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।