ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

জেলা পরিষদে দলীয় নেতা নিয়োগ দিয়ে জনমতকে উপেক্ষা করা হলো

জেলা পরিষদের নিয়োগের বিরোধিতা করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেছেন, জেলা পরিষদে দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে জনমতকে উপেক্ষা করা হলো।

তিনি বলেন, দেশের শাসন ব্যবস্থার সর্বস্তরে জনমতের প্রতিফলন নিশ্চিত করাই গণতান্ত্রিক রীতি ও বাধ্যবাধকতা। একটি সফল গণঅভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ দেড়যুগের স্বৈরশাসনের উৎখাত হয়েছে। আপাতত সুষ্ঠু একটি নির্বাচন হয়েছে। তারপরে প্রত্যাশা ছিল, জাতীয় সরকারের মতো স্থানীয় সরকারের সকল স্তরেই নির্বাচনের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত হবে। কিন্তু হতাশার বিষয় হলো, বর্তমান সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন না করে দলীয় লোকদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকারে জনগণের কর্তৃত্ব লোপ পাচ্ছে। এভাবে দলীয় লোকদের জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগের ব্যাপারে তীব্র আপত্তি ও নিন্দা জানাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এক বিবৃতির মাধ্যমে এই নিন্দা জানানো হয়।

নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরি হয় জানিয়ে দলটির মহাসচিব বলেন, জেলা পরিষদের দলীয় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে জেলা পরিষদকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হলো।

এই প্রশাসকদের দায়বদ্ধতা কার কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, যারা নিয়োগ পেয়েছেন তারা নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে দায়িত্ব পেলে জনতার প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরি হতো। সরকারের আমলাদের প্রাতিষ্ঠানিক এক ধরনের দায়বদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু দলীয় লোকদের নিয়োগ দেওয়ার কারণে এদের দায়বদ্ধতা কেবলই দলের কাছে।

একটি গণপ্রতিষ্ঠানের কর্তাদের দায়বদ্ধতাকে কেন একটি দলের কাছে সীমাবদ্ধ থাকবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্ন  তুলে ইউনুস আহমদ বলেন, স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে একটি দলের প্রাইজ পোস্টিংয়ের জায়গা হিসেবে বিবেচনা করা ন্যায় সংগত কিনা সেটাই এখন বিবেচ্য বিষয়।

বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দ্রুততার সঙ্গে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানায়।