প্রথম ম্যাচে হারের ক্ষত শুকোতে সময় নিল না নিউজিল্যান্ড। হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৬৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল কিউইরা।
ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল নিউজিল্যান্ড (যদিও ফাইনালে তারা ভারতের কাছে হেরে যায়)। সেই হারের পর এই দ্বিপাক্ষিক সিরিজটি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য প্রতিশোধের সুযোগ। প্রথম ম্যাচে ৭ উইকেটে জিতে সেই পথেই ছিল তারা, কিন্তু গতকাল হ্যামিল্টনে কিউইরা ‘বদলার বদলা’ নিল দাপটের সাথেই।
টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭৫ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় নিউজিল্যান্ড। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬০ রান করেন অভিজ্ঞ ওপেনার ডেভন কনওয়ে। ৪৯ বলের এই ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ২টি ছক্কার মার।
বিশ্বকাপে সাইডবেঞ্চে বসে থাকা ৩৪ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ব্যাটার আজ প্রমাণ করলেন কেন তিনি দলের বড় ভরসা। ২০ ইনিংস এবং প্রায় দুই বছর পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি তার সর্বোচ্চ রান। শেষ দিকে মাত্র ৯ বলে ২৬ রানের অপরাজিত ক্যামিও খেলেন জশ ক্লার্কসন, যা কিউইদের স্কোরকে ১৭০-এর ঘর পার করতে সাহায্য করে। দক্ষিণ আফ্রিকার কেশব মহারাজ শেষ ওভারে ২১ রান খরচ করলে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে যায় অতিথিরা।
১৭৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মন্দ ছিল না দক্ষিণ আফ্রিকার। ৩ ওভারে বিনা উইকেটে ২৪ রান তুলে ফেলে তারা। কিন্তু পঞ্চম ওভারে বেন সেয়ার্স ব্রেক-থ্রু এনে দেওয়ার পরই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে প্রোটিয়া ব্যাটিং লাইনআপ।
মাত্র ১০৭ রানেই গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা, যা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তাদের ১০ম সর্বনিম্ন স্কোর। ১৫.৩ ওভারের বেশি টিকতে পারেনি তারা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন জর্জ লিন্ডে।
আগামী শুক্রবার অকল্যান্ডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। সিরিজ জয়ের দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে ম্যাচটি দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড: ১৭৫/৬ (২০ ওভার); কনওয়ে ৬০, ক্লার্কসন ২৬*; মুল্ডার ২/১৪।
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১০৭/১০ (১৫.৩ ওভার); লিন্ডে ৩৩; সেয়ার্স ৩/১৪, ফার্গুসন ৩/১৬।
ফল: নিউজিল্যান্ড ৬৮ রানে জয়ী।
সিরিজ: ১-১ সমতা।