অন্তঃসত্ত্বা মায়ের ঈদযাত্রায় সতর্কতা

ঈদের ছুটিতে সবাই চায় বাড়ি যেতে। ঈদ মানেই প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফেরা। কিন্তু অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য দীর্ঘ পথের ঈদযাত্রা কখনো কখনো হয়ে উঠতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ। ভিড়, দীর্ঘ সময় বসে থাকা, অনিয়মিত খাবার কিংবা ক্লান্তি এসব বিষয় মা ও গর্ভের শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এ সময় ভ্রমণের আগে কিছু সতর্কতা ও প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, আরামদায়ক যাত্রা বেছে নেওয়া, পর্যাপ্ত পানি ও খাবার সঙ্গে রাখা এবং প্রয়োজন হলে মাঝপথে বিশ্রাম নেওয়া এসব ছোট ছোট বিষয় বড় ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পিত ও সচেতন যাত্রাই অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য ঈদ ভ্রমণকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে। তাই আনন্দমুখর ঈদের পথে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

কেন বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন

         গর্ভাবস্থায় ৪ থেকে ৭ মাস পর্যন্ত জার্নি করা সাধারণত নিরাপদ।

         ১ম ৩ মাস পর্যন্ত  অনড়ৎঃরড়হ-এর ঝুঁকি বেশি থাকায় ১ম ৩ মাস দূরের যাত্রা না করাই শ্রেয়।

         একইভাবে গর্ভাবস্থায় ৭-৯ মাসের মধ্যে দূরের যাত্রায় না যাওয়া শ্রেয়। এই সময়টাতে মা ও বাচ্চার স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়। যেকোনো সময় ডেলিভারির ব্যথা উঠতে পারে অথবা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।

দূরের যাত্রায় কী করবেন?

         চেষ্টা করতে হবে অন্তঃসত্ত্বা মা যেন সর্বোচ্চ আরামদায়কভাবে ভ্রমণ করতে পারে। সেক্ষেত্রে ট্রেন যাত্রা তুলনামূলক ভালো।

         অনেকক্ষণ বসে না থেকে শুয়ে যেতে পারলে ভালো।

         যাত্রাপথে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খাবেন। শুকনা খাবার অথবা ফলমূল খেতে পারেন।

         একটানা ৬ থেকে ৭ ঘণ্টার জার্নি এড়িয়ে চলা ভালো।

         ডাক্তারের প্রেসক্রিপসন ও ওষুধ নিজের মধ্যে রাখতে হবে।

         পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

         বাচ্চার নড়াচড়া যেন পর্যাপ্ত হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

         বাইরের খাবার বা খোলা খাবার বাদ দিতে হবে।

         ঘরে বানানো খাবার সঙ্গে রাখতে হবে।

         সর্বোপরি, মা এবং বাচ্চা যেন সুস্থ থাকেন সে বিষয়ে পরিবারের সবাইকে সচেষ্ট

থাকতে হবে এবং সহযোগিতা করতে হবে।