পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যশোর জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপনের জন্য ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলার আটটি উপজেলার ৯৩টি ইউনিয়নে প্রতিবছরের মতো এ বছরও প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মসজিদ ও ঈদগাহে ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বিল্লাল বিন কাশেম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জেলার সর্বত্র মুসল্লিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে মসজিদ ও ঈদগাহগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন।
তিনি আরও জানান, যশোরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এখানে প্রথম জামাত সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া যশোর জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রেও ঈদের জামাত আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রথম জামাত সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই মডেল মসজিদে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির সমাগম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলার অন্যান্য উপজেলা- যেমন অভয়নগর, কেশবপুর, মনিরামপুর, ঝিকরগাছা, শার্শা, চৌগাছা ও বাঘারপাড়া- প্রতিটি এলাকাতেই ঈদগাহ ও গুরুত্বপূর্ণ মসজিদগুলোতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ যৌথভাবে এসব জামাতের সার্বিক তদারকি করছেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সকল ইমাম, খতিব ও কমিটির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। নামাজের আগে খুতবায় ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবিকতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের গুরুত্ব তুলে ধরার জন্যও বিশেষভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ঈদের জামাত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও প্রস্তুত রয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো একযোগে কাজ করছে। গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাহ ও বড় মসজিদগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কোথাও যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সতর্ক নজরদারি রাখা হচ্ছে।