দুটি ঘটনায় ৩ দিনে চার রোগীর মৃত্যু

মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে দুটি পৃথক ঘটনায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চার রোগীর মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে নতুন ভবনের পঞ্চম তলায় অগ্নিকা-ের সময় স্থানান্তরকালে অক্সিজেনের অভাবে দুই রোগীর মৃত্যু হয়। এর আগে আর গত রবিবার সকালে সিনিয়র নার্সদের ভুল ইঞ্জেকশনের কারণে চতুর্থ তলার নাক-কান-গলা বিভাগের মহিলা ওয়ার্ডে আরও দুই রোগীর মৃত্যু হয়।অগ্নিকা-ে মৃতরা হলেন, পটুয়াখালী সদরের কাজী আতাউর রহমান (৮০) এবং বরিশাল সদরের আবুল হোসেন (৬৭)। ভুল ইঞ্জেকশনে মৃতরা হলেন বরিশাল মেট্রোপলিটনের হেলেনা বেগম (৪৮) এবং কলাপাড়ার শেফালি বেগম (৬০)। গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে মেডিসিন ওয়ার্ডের একটি কর্নারে রাখা ফোম, চাদর ও বালিশে আগুন লেগে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে হুড়োহুড়িতে ভবন খালি করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে হাসপাতালে কোনো ইমার্জেন্সি এক্সিট না থাকায় এবং পর্যাপ্ত স্টাফ না থাকায় গুরুতর অসুস্থ রোগীরা চরম বিপদে পড়েন।

কাজী আতাউর রহমানের পুত্রবধূ জানান, সবসময় অক্সিজেননির্ভর তার শ্বশুরকে অক্সিজেন ছাড়াই নামানো হয়। হাসপাতাল চত্বরে থাকা বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকের কাছে অক্সিজেন চাইলেও তিনি দিতে অস্বীকার করেন; এতে তার মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, ২০২৪ সালেও হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ইউনিট ও মেডিসিন বিভাগে দুবার আগুন লেগেছিল। রবিবারের ঘটনায় মৃত শেফালি বেগমের মেয়ে খাদিজা বেগম বলেন, ‘মা সুস্থ ছিলেন, ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন। নার্সদের জানানো হলেও তারা কোনো ভ্রুক্ষেপ করেননি।’ অভিযুক্ত দুই সিনিয়র নার্স হলেন মলিনা রানী ম-ল ও হেলেন অধিকারী।

সুজনের বরিশাল নগর সমন্বয়ক রফিকুল আলম বলেন, ‘এটি দুর্ঘটনা  নয়, হত্যাকা-। দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’ তিনি হাসপাতালে ইমার্জেন্সি এক্সিট না থাকার বিষয়টিকে কর্তৃপক্ষের গুরুতর ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেন। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনির জানান, অগ্নিকা-ের ঘটনায় ৬ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনও আলাদা তদন্ত কমিটি করেছে। ভুল ইঞ্জেকশনের ঘটনায় দুই নার্সকে বরখাস্ত ও বাধ্যতামূলক অবসরের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে চার রোগীর মৃত্যু প্রসঙ্গে পরিচালকের মন্তব্য ‘ব্যাড লাক, কী করব বলেন?’ ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ৫০০ শয্যার এ হাসপাতালে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৭০০ রোগী ভর্তি হচ্ছেন এবং একসঙ্গে ভর্তি থাকছেন প্রায় ২ হাজার ২০০ রোগী। জনবল সংকটকেই প্রশাসন এ অব্যবস্থার অন্যতম কারণ বলছে।