২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে ঘনিয়ে আসা কূটনৈতিক উত্তেজনা এক নতুন মোড় নিল। ইরানের ফুটবল প্রধান মেহেদি তাজ বুধবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের জাতীয় দল বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে এবং টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহারের কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। তবে তারা কোনোভাবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খেলতে যাবে না।
আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। সূচি অনুযায়ী ইরানের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে ইরান ফুটবল ফেডারেশন (এফএফআইআরআই) ফিফার কাছে আবেদন করেছে তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার জন্য।
মজার বিষয় হলো, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম মঙ্গলবার জানিয়েছেন যে, তারা ইরানের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো (নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং মিশরের বিপক্ষে) নিজ দেশে আয়োজন করতে আগ্রহী। তবে ভেন্যু পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার ওপর।
উল্লেখ্য, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত ইরানের নারী ফুটবলারদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের প্রস্তাব দেন এবং জানান যে ইরানি পুরুষ ফুটবলারদের যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে আসাটা তাদের ‘জীবন ও নিরাপত্তার’ জন্য হয়তো যথাযথ হবে না। ট্রাম্পের এই বক্তব্যকেই ভেন্যু পরিবর্তনের প্রধান যুক্তি হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন একসময়ের রেভল্যুশনারি গার্ড সদস্য মেহেদি তাজ। তিনি বলেন, “আমরা আমেরিকাকে বর্জন করব, কিন্তু বিশ্বকাপকে নয়।”
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইরান বর্তমানে তুরস্কে অনুশীলন ক্যাম্প করছে। সেখানে তারা নাইজেরিয়া (২৭ মার্চ) এবং কোস্টারিকার (৩১ মার্চ) বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে এই টুর্নামেন্টটি জর্ডান থেকে তুরস্কে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফিফা জানিয়েছে তারা ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সাথে যোগাযোগ রাখছে। তবে সংস্থাটি এখনও ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর ঘোষিত সূচি অনুযায়ী সব দলের অংশগ্রহণের ব্যাপারে আশাবাদী।
ভূ-রাজনৈতিক এই লড়াইয়ের ময়দান এখন ফুটবল মাঠ। শেষ পর্যন্ত ফিফা ইরানের দাবি মেনে মেক্সিকোতে ম্যাচ সরায়, নাকি ইরান তাদের সিদ্ধান্তে অটল থেকে বড় কোনো সংকটের জন্ম দেয়—এখন সেটিই দেখার বিষয়।