ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রেই বিশ্বকাপ খেলতে হবে: ফিফার কড়া বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে গিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইরান। সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণেই তারা নিজেদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরানোর দাবি তুলেছিল। সেই প্রেক্ষিতে ফিফার অবস্থান পরিষ্কার করলনে সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি বলেছন, "আমাদের একটি নির্দিষ্ট সূচি আছে এবং সেটি বদলানো হবে না।"

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনার কারণে ইরান সরকার ও ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছিল, তাদের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলা সম্ভব নয়। ইরান তাদের তিনটি গ্রুপ ম্যাচ (লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে নির্ধারিত) মেক্সিকোতে স্থানান্তরের অনুরোধ করেছিল। তবে গত বৃহস্পতিবার ফিফা কাউন্সিলের সভার পর ইনফান্তিনো স্পষ্ট করে দেন যে, ঘোষিত সূচি অনুযায়ীই সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, "আমরা চাই ফিফা বিশ্বকাপ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই চলবে।"

ফিফা সভাপতি মনে করেন, ফুটবল দিয়ে সব রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তার মতে, "ফিফা ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব মিটিয়ে দিতে পারে না।" তবে তিনি ফুটবলের শক্তি ব্যবহার করে শান্তি প্রচার এবং দেশগুলোর মধ্যে সেতু তৈরির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য যে, গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিশেষ 'শান্তি পুরস্কার' প্রদান করেছিলেন ইনফান্তিনো।

​একই সভায় ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের করা অভিযোগের বিষয়েও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা। ফিলিস্তিন দাবি করেছিল যে, ইসরায়েল তাদের ঘরোয়া লিগে পশ্চিম তীরের সেটেলমেন্ট বা বসতি এলাকার দলগুলোকে খেলতে দিয়ে ফিফার নিয়ম লঙ্ঘন করছে। এ বিষয়ে ফিফা জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের আইনি মর্যাদা একটি অত্যন্ত জটিল আন্তর্জাতিক বিষয়, যা সমাধান করা তাদের কাজ নয়। তাই আপাতত ইসরায়েলি ফেডারেশনের সদস্যপদ স্থগিত বা অন্য কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

ইনফান্তিনোর এই অনড় অবস্থানের পর এখন বল ইরানের কোর্টে। ইরান কি তাদের বর্জনের সিদ্ধান্তে অটল থেকে বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেবে? নাকি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খেলতে নামবে? আগামী কয়েক সপ্তাহ ফুটবল বিশ্বের নজর থাকবে তেহরানের সিদ্ধান্তের দিকে।