মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরব। শুক্রবার ভোরে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দাবি।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, 'ইরানি আগ্রাসনে' দেশটির একটি গুদামে আগুন লাগে। পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। হামলার আগে বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে।
কুয়েত সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হুমকি মোকাবিলা করছে। একই ধরনের হুমকির কথা জানিয়েছে আমিরাতও। অন্যদিকে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ে পূর্বাঞ্চলে ছয়টি এবং উত্তরাঞ্চলে একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
এদিকে, ইরানের গ্যাস অবকাঠামোয় হামলা না চালানোর আহ্বান জানানোর একদিন পরই ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, রাজধানী তেহরান-এর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে সংঘাত শুরু হয়। এতে এখন পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ। সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর আগে লোহিত সাগর উপকূলে সৌদির তেল শোধনাগার ও কুয়েতের দুটি স্থাপনায় ড্রোন হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। একই ধারাবাহিকতায় কাতারের রাস লাফান গ্যাস হাবেও বড় ধরনের হামলা চালায় ইরান, যা দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ বলে দাবি করেছে তেহরান।