হরমুজ প্রণালী নিরাপত্তা ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ ছয় দেশ

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ উদ্যোগে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি জানিয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্য। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ফ্রান্সের এলিসি প্যালেস থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো এ ঘোষণা দেয়। 

বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে যেসব দেশ উদ্যোগ নিয়েছে, তাদের পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো হচ্ছে এবং এ লক্ষ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর নিরাপত্তা এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ছয় দেশ ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছে, তেল ও গ্যাস স্থাপনাসহ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা এবং প্রণালীতে নৌচলাচলে বাধা সৃষ্টি করে তেহরান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন করছে। আরব উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত এবং নৌপথে বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনাগুলোকেও তারা তীব্র নিন্দা জানায়।

যৌথ বিবৃতিতে ইরানকে অবিলম্বে সব ধরনের 'উসকানিমূলক' কার্যক্রম,যেমন মাইন স্থাপন, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা, বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ-এর প্রস্তাব মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নৌচলাচলের স্বাধীনতা আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সমুদ্র আইন কনভেনশনের একটি মৌলিক ভিত্তি। এ প্রণালীতে যেকোনো প্রতিবন্ধকতা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত করে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করতে পারে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ওপর।

এ প্রেক্ষাপটে, ছয় দেশ বেসামরিক অবকাঠামো,বিশেষ করে তেল ও গ্যাস স্থাপনায়,সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানায়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার পেট্রোলিয়াম মজুদ সমন্বিতভাবে মুক্ত করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। 

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, চলমান সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সহায়তায় তারা জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে কাজ করবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।