দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক খেলোয়াড় ও খ্যাতিমান কোচ গ্যারি কারস্টেন শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু দায়িত্ব পালনকালে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) ‘হস্তক্ষেপ’ আর ‘নোংরা’ কর্মসংস্কৃতি নিয়ে এবার যেন ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে তাঁর। মহসিন নাকভির নেতৃত্বাধীন পিসিবির কড়া সমালোচনা করে কারস্টেন প্রশ্ন তুলেছেন, কাজ করতে না দিলে কোচ নিয়োগ দেওয়ারই বা দরকার কী?
২০২৪ সালের এপ্রিলে দুই বছরের চুক্তিতে পাকিস্তানের সাদা বলের কোচ হয়েছিলেন কার্স্টেন। কিন্তু অক্টোবর মাসেই দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার ঝুলি খুলেছেন লঙ্কানদের বর্তমান এই কোচ।
টকস্পোর্ট ক্রিকেটের সঙ্গে আলাপকালে কার্স্টেন জানান, পিসিবিতে কাজ করার সময় তিনি যে পরিমাণ বাইরের হস্তক্ষেপ দেখেছেন, সেটা তার দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারে নজিরবিহীন।
কারস্টেন বলেন, “যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে, তা হলো হস্তক্ষেপের মাত্রা। আমার মনে হয় না এর আগে কখনো এই পর্যায়ের হস্তক্ষেপ দেখেছি। বাইরের অনবরত শোরগোলের মধ্যে একজন কোচের পক্ষে দলের জন্য পরিকল্পনা করা বা খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করা অসম্ভব। পারফরম্যান্স খারাপ হলেই সেখানে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার এক ধরণের প্রবণতা কাজ করে।”
দলের ব্যর্থতায় কোচদের ওপর দায় চাপানোর সংস্কৃতি নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কারস্টেন। তার মতে, দল ভালো না করলে সবার আগে কোচের ওপর কোপ পড়ে। কারস্টেনের ভাষায়, “যখন দল ভালো খেলে না, তখন কোচই হলো সবচাইতে সহজ লক্ষ্য। হয় কোচকে ছাঁটাই করো, না হয় তার ক্ষমতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করো। আমার মতে, এটি হিতে বিপরীত। তবে কোচ নিয়োগ করেন কেন?”
পাকিস্তান অধ্যায় চুকে যাওয়ার পর কারস্টেন এখন শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের প্রধান কোচ। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর ১৫ এপ্রিল থেকে দুই বছরের চুক্তিতে লঙ্কানদের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সঙ্গে থাকছেন সাবেক এই প্রোটিয়া ওপেনার। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) জানিয়েছে, কারস্টেনের মূল লক্ষ্য হবে ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য লঙ্কানদের প্রস্তুত করা। উল্লেখ্য, খেলোয়াড়ি জীবনে কার্স্টেন দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ১৪ হাজারেরও বেশি আন্তর্জাতিক রান করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ২১টি টেস্ট ও ১৩টি ওয়ানডে সেঞ্চুরি।