বিএনপির এমপির পাশে দাঁড়িয়ে ঈদগাহে বক্তব্য দিলেন আ. লীগ নেতা

জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবুর পাশে দাঁড়িয়ে ঈদগাহে বক্তব্য দিয়েছেন মাকছুদুর রহমান আনছারী নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি একাধিক মামলার আসামি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলে জানা গেছে।

আজ শনিবার (২১ মার্চ) সকালে উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের নাপিতেরচর বাজার সংলগ্ন গাইবান্ধা ঈদগাহে ঈদের নামাজের পূর্ব মুহূর্তে তিনি শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।

আওয়ামী লীগ নেতা মাকছুদুর রহমান আনছারী, তিনি উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদের পাশাপাশি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনরত ছাত্রদের মারধরসহ বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের সময় পুলিশ প্রোটকলে ঈদগাহে উপস্থিত হন স্থানীয় এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু। এ সময় শুভেচ্ছা বক্তব্য দিচ্ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও গাইবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান কবির মঞ্জিল। ইতিমধ্যে ঈদগাহের মিহরাবে বসেন এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু। সকাল ১০টা ২০ মিনিটের সময় গাইবান্ধা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন সাদা মিয়া বক্তব্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলে এমপি সুলতান মাহমুদ বাবুর পাশে দাঁড়িয়ে মাইক হাতে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা ও গাইবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান আনছারী।

মাকছুদুর রহমান আনছারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঈঙ্গিত করে বলেন, এখানে উপস্থিত রয়েছেন যার জন্য আপনারা অল্প কিছুদিন আগে অত্যন্ত পরিশ্রম করেছেন। আমাদের সেই প্রিয় মানুষ এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু। সবাই কাঁধে কাঁধ মিলে একটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে আপনারা এক ছাতার নিচে থেকে ইসলামপুরের সম্মান, বিজয় এবং পূর্ব এলাকার ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। সেটা হলো আপনারা সুলতান মাহমুদ বাবুকে এমপি নির্বাচিত করেছেন। আল্লাহ পাকের রহমতে আপনারা কামিয়াবি হয়েছেন। সেই জন্য মহান রাব্বুল আল আমিনের কাছে আমরা শুকরিয়া আদায় করি।

মাকছুদুর রহমান আনছারী আরও বলেন, এমপি মহোদয়ের কাছে অনুরোধ করব; তিনি যেন এই ঈদগাহের যাবতীয় উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করে দেন।

ইসলামপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনা সরকার পতনের আগের দিন ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীরা ইসলামপুর অডিটরিয়ামের সামনে জড়ো হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা দেশীয় অস্ত্রে ছাত্রদের ওপর হামলা চালান। এতে বেশ কয়েকজন ছাত্র আহত হন। এ ঘটনায় ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর চরপুটিমারী ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা আইয়ুব আলী বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের ৩১ নেতাকর্মীর নামে ইসলামপুর থানায় মামলা করেন। ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই ওই মামলায় ৮০ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ মামলায় এজাহার ও চার্চশিটভুক্ত আসামি ইউপি চেয়ারম্যান মাকছুর রহমান আনছারী। এ ছাড়া একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সভারচর এলাকায় বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী।

এ নিয়ে সেদিন রাতে জেলা ছাত্রদলের সমাজ কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে ১২৮ জনের নামে বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক আইনে থানায় মামলা করেন। মামলায় মাকছুদুর রহমান আনছারী এহাজারভুক্ত আসামি। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আজ প্রথম বারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন তিনি।

ইসলামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল কাইয়ুম গাজী বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান মাকছুর রহমান আনছারীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তবে তিনি ঈদগাহে বক্তব্য বিষয়টি পরে জেনেছি। এরপর তিনি সটকে পড়েন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হবে। তাদের পরমর্শে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।