ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলে সমস্যা যেন পিছু ছাড়ছে না। কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ওপর বেজায় চটেছেন ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারা। অভিযোগ উঠেছে, দলে শৃঙ্খলার চেয়েও মদ্যপান ও ধূমপান করা ক্রিকেটারদের বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন তিনি। তবে এত বিতর্কের পরও এখনই তাকে ছাঁটাই করা সম্ভব হচ্ছে না।
কেন সরানো যাচ্ছে না ম্যাককালামকে?
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর খবর অনুযায়ী, ম্যাককালামকে এই মুহূর্তে কোচের পদ থেকে সরাতে গেলে বোর্ডকে বিশাল অংকের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। চুক্তির মারপ্যাঁচে আটকে গিয়েই কর্তারা চাইলেও তাকে এখনই বিদায় করতে পারছেন না। তবে তার অবাধ স্বাধীনতায় লাগাম টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।
অভিযোগের পাহাড়
উশৃঙ্খল পরিবেশ: অভিযোগ উঠেছে, সাজঘরে ফুরফুরে পরিবেশ রাখার নামে ম্যাককালাম ক্রিকেটারদের শৃঙ্খলার তোয়াক্কা করছেন না। ক্রিকেটাররা প্রশিক্ষণের সময়েও রাত ৯টার পর পানশালায় সময় কাটাচ্ছেন এবং ম্যাকালাম বাধা দেওয়ার বদলে নিজেই তাদের সঙ্গ দিচ্ছেন।
অ্যাশেজ বিতর্ক: গত অ্যাশেজ সিরিজের মাঝপথেও ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মদ্যপানের অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে পরবর্তীকালে তদন্ত পর্যন্ত করতে হয়েছে।
স্টোকস-ম্যাককালাম দ্বন্দ্ব: অ্যাশেজ পরবর্তী পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অধিনায়ক বেন স্টোকস এবং কোচ ম্যাককালামের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। স্টোকসের দাবি, তাদের 'বাজবল' কৌশল প্রতিপক্ষ ধরে ফেলেছে। অন্যদিকে ম্যাককালামের মতে, স্টোকসের নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা নেই।
পরিস্থিতির উত্তরণ
অ্যাশেজের পর হ্যারি ব্রুকের মদ্যপান করে বারে মারামারির ঘটনা যে কৌশলে ম্যাককালাম সামলেছেন, তার প্রশংসা করেছে বোর্ড। আপাতত পদ টিকিয়ে রাখতে ম্যাককালাম বেশ কিছু পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন:
* বোর্ডের তদারকি: আগের মতো আর সব বিষয়ে পূর্ণ স্বাধীনতা পাবেন না তিনি।
* কঠোর ফিটনেস: পারফরম্যান্স ডিরেক্টর এড বার্নের তত্ত্বাবধানে ক্রিকেটারদের ফিটনেস ও কন্ডিশনিংয়ের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে।
* সাপোর্ট স্টাফ বৃদ্ধি: দলের খামতি পূরণে নতুন কোচিং ও সাপোর্ট স্টাফ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে আর্থিক কারণে আপাতত নিজের চেয়ার রক্ষা করতে পারলেও, ম্যাককালামের ওপর যে কড়া নজরদারি থাকবে তা নিশ্চিত।