রাস্তায় পুলিশ সার্জেন্টের সঙ্গে কোলাকুলি, প্রশংসায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রী

ঈদের আনন্দ কেবল উৎসবের রঙে নয়, বরং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে কীভাবে পূর্ণতা পায়, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঈদের দিনে রাস্তায় কর্তব্যরত এক পুলিশ সার্জেন্টের প্রতি তাঁর সহমর্মিতা ও আন্তরিকতার একটি ভিডিও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহীর এমন ‘সাধারণ’ হয়ে ওঠার দৃশ্যটি দেশজুড়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওচিত্রটিতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কর্তব্যরত একজন পুলিশ সার্জেন্ট তাঁকে দেখে এগিয়ে আসেন। পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে ওই সার্জেন্ট প্রধানমন্ত্রীকে স্যালুট দিয়ে হাত মেলাতে চাইলে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। প্রধানমন্ত্রী কেবল হাত মেলানোতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; অত্যন্ত সাদামাটাভাবে হাসিমুখে ওই পুলিশ সদস্যকে কাছে টেনে বুকে জড়িয়ে ধরেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর এই আচমকা আন্তরিকতায় কর্তব্যরত ওই পুলিশ সদস্যের চোখে-মুখে বিষ্ময় ও উচ্ছ্বাসের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উপস্থিত জনতা ও নিরাপত্তারক্ষীদের মাঝেও এই দৃশ্য এক পজিটিভ বা ইতিবাচক পরিবেশের সৃষ্টি করে।

ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। আবেগঘন এক ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, এই দৃশ্য ঈদের আনন্দ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। যেমন রাষ্ট্র চাই, ঠিক সেই পথেই আমরা এগোচ্ছি।

মন্ত্রীর এই পোস্টের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ ভিডিওটি শেয়ার করেছেন। সাধারণ নাগরিকরা মন্তব্যের ঘরে প্রধানমন্ত্রীর এই বিনয় ও আন্তরিকতার প্রশংসা করছেন। অনেকে বলছেন, সাধারণ মানুষের প্রতি এই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বজায় থাকলে তা আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। 

সাধারণত ভিআইপি প্রটোকল বা কড়া নিরাপত্তার বেড়াজালে রাষ্ট্রপ্রধানদের সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু সেই প্রথা ভেঙে একজন মাঠপর্যায়ের কর্মীর সঙ্গে কোলাকুলি করে তারেক রহমান এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

প্রধানমন্ত্রীর এই সহজ-সরল রূপটি সাধারণ মানুষের মনে আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, এটি কোনো রাজনৈতিক প্রচার নয় বরং মানবিকতার বহিঃপ্রকাশ, যা ঈদের দিনের আনন্দকে আরও মহিমান্বিত করেছে।