চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ‘সুয়াবিল সোবহানীয়া সড়ক’ নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ সড়কটির কাজ অর্ধেকও শেষ হয়নি, এরই মধ্যে গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২ হাজার ৭৬০ মিটার দীর্ঘ এই সড়কটি কোভিড প্রকল্পের আওতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এল জে ট্রেডার্স বাস্তবায়ন করছে। ২০২৫ সালের ১ জুন কার্যাদেশের পর কাজ শুরু হলেও বর্তমান কাজের মান চুক্তির শর্তের সঙ্গে মিলছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণ কাজে বালুর পরিবর্তে কাদা-মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিম্নমানের ভাঙা ইট (রাবিশ) দিয়ে খোয়া ছিটানো হচ্ছে। পর্যাপ্ত পানি ব্যবহার না করায় সড়কে ধুলাবালির সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। ইতোমধ্যে সড়কের কয়েকটি অংশ বসে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের তদারকি প্রায় নেই বললেই চলে। একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বরং দ্রুত কাজ শেষ করে বিল উত্তোলনের তৎপরতা চলছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রবাসী মো. রাশেদ বলেন, এই মানের কাজ টিকবে না। অল্প সময়েই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে।
সোহেল ও তৌহিদুল আলম নামের দুই ব্যক্তি বলেন, কাদা-মাটি দিয়ে রাস্তা বানানো হচ্ছে—এটা খুবই হতাশাজনক।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, স্থানীয়ভাবে চাঁদার চাপ থাকায় নির্দিষ্ট উৎস থেকে মালামাল নিতে হচ্ছে। তবে তিনি এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগের তথ্য দিতে পারেননি।
পৌর প্রকৌশলী বিকাশ চন্দ্র দাশ জানান, বিষয়টি যাচাই করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মো. ইব্রাহীম বলেন, নিম্নমানের কাজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সড়ক নির্মাণে স্বচ্ছতা ও মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।