স্পন্সরশিপে হাজার কোটির মাইলফলকে আইপিএল, শীর্ষে সেই তিন দল

বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) আবারও নিজের বাণিজ্যিক শক্তি প্রমাণ করল। ডাব্লিউপিপি মিডিয়ার ‘স্পোর্টিং নেশন ২০২৫’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সম্মিলিত স্পন্সরশিপ আয় এবার ১ হাজার কোটি রুপির মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বর্তমানে এই আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৩ কোটি রুপিতে। এটি কেবল ভারতের নয়, বিশ্বের ক্রীড়া বাণিজ্যের অন্যতম বড় এক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

১ হাজার কোটি রুপির এই বিশাল অংকের আয়ের সিংহভাগই দখল করে রেখেছে লিগের তিনটি জনপ্রিয় দল। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাই সুপার কিংস—এই তিন দল প্রত্যেকে প্রায় ১৫০ কোটি রুপি করে স্পন্সরশিপ আয় করেছে। জনপ্রিয়তার নিরিখে এরাই এখন আইপিএলের বাণিজ্যিক ‘টপ টিয়ার’ বা প্রথম সারির দল। আয়ের দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স ও গুজরাট টাইটানস।

এক সময় আইপিএলের বিজ্ঞাপনে কেবল ফ্যান্টাসি গেমিং অ্যাপের দাপট দেখা যেত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধারা বদলে গেছে। এখন প্রযুক্তি, বিমান সংস্থা, ফিনটেক এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বড় কোম্পানিগুলো আইপিএলকে তাদের প্রচারণার প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছে। এমনকি অনেক বৈশ্বিক ব্র্যান্ডও এখন আইপিএল দলগুলোর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, যারা ভারতের বাইরেও ব্র্যান্ডিংয়ের অধিকার ব্যবহার করতে চায়।

ডাব্লিউপিপি মিডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিনিত কার্নিক বলেন, ‘আইপিএল এখন কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি ভারতীয় ক্রীড়া বাণিজ্যের মেরুদণ্ড। যেখানে বিশাল দর্শক সমাগম থাকে, সেখানে পুরনো বা নতুন—সব ধরনের স্পন্সরই অর্থ বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত।’

বিশ্বের অন্যান্য শীর্ষ লিগের তুলনায় আইপিএলের এই বাণিজ্যিক উত্থান চোখ ধাঁধানো। বার্ষিক আয়ের দিক থেকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ (ইপিএল) এখনো শীর্ষে থাকলেও, প্রতি ম্যাচের মিডিয়া স্বত্ব মূল্যের হিসেবে আইপিএল এখন বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী লিগ। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে কেবল আমেরিকান ফুটবলের এনএফএল।

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, ইউরোপিয়ান বা আমেরিকান লিগগুলো যেখানে সারা বছর ধরে চলে, সেখানে আইপিএল মাত্র দুই মাসের একটি সংক্ষিপ্ত আসর। এই অল্প সময়ে যে পরিমাণ আর্থিক লেনদেন হয়, তাকে ‘বাণিজ্যিক স্প্রিন্ট’ বা দ্রুত গতির দৌড় হিসেবে অভিহিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।