চৌদ্দগ্রামে আ. লীগ নেতার বিরুদ্ধে ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা মনোহর আলীর নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং নারী সদস্যদের শ্লীলতাহানীর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের যুগিরহাট গ্রামে গত শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। 

সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে অভিযুক্ত মনোহর আলী ও তার সহযোগীরা হাফেজ মজুমদারের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গত বছরের ২২ নভেম্বর হাফেজ মজুমদারের পিতা শফিকুর রহমান মজুমদারের ওপর স্থানীয় জামে মসজিদের সামনে হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় কিছুদিন পর তার মৃত্যু হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার গভীর রাতে মনোহর আলীর নেতৃত্বে তার ছেলে শাহজাহান, জালাল হোসেন, মো. বশির, আবুল কাশেমসহ আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাফেজ মজুমদারের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বসতঘর ভাঙচুর, আসবাবপত্র নষ্ট এবং স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ প্রায় ১ লাখ টাকা লুট করে। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ সময় বাড়িতে থাকা নারী সদস্যদের শ্লীলতাহানীর চেষ্টার অভিযোগও ওঠে। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পরে ভুক্তভোগীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অভিযুক্ত মনোহর আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শামসুল আরেফিন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।