সাশ্রয়ীদামে ল্যাপটপ ম্যাকবুক নিও আনল অ্যাপল

শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী দামে নতুন ম্যাকবুক নিও এনেছে অ্যাপল, যা গত এক দশকের মধ্যে কোম্পানিটির সবচেয়ে সহজে সারানো যায় এমন ল্যাপটপ। রয়টার্স লিখেছে, শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে এ ল্যাপটপটির প্রাথমিক দাম নির্ধারিত হয়েছে ৪৯৯ ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬১ হাজার টাকা। আইফিক্সইটের শুক্রবারের এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ২০১৪ সালের পর থেকে অ্যাপলের তৈরি করা বিভিন্ন ল্যাপটপের মধ্যে এ ল্যাপটপটিই সবচেয়ে সহজে সারানো যায়। বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস সারানোর নির্দেশিকা প্রকাশ এবং এর প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম বিক্রি করে আইফিক্সইট। তারা একটি ডিভাইস সার্ভিসিং করা কতটা সহজ, এর ওপর ভিত্তি করে রেটিং দেয়। ডেল ও লেনোভোর মতো বিভিন্ন ল্যাপটপ নির্মাতা কোম্পানি নিজেদের পণ্যের মানোন্নয়নে এই রেটিং ব্যবহার করে।

শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আইফিক্সইট বলেছে, আগের বিভিন্ন ল্যাপটপের তুলনায় এই মডেলে অ্যাপল বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। যেমন কম্পিউটারের ব্যাটারি ও কিবোর্ড এখন আঠা বা রিভেটের বদলে স্ক্রু দিয়ে আটকানো হয়েছে। ডিভাইসের ক্যামেরা ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরের মতো বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এখন খুব সহজেই বদলে ফেলা সম্ভব। অ্যাপল তাদের ম্যাকবুক নিও দিয়ে সেই বাজারকে টার্গেট করেছে, যেখানে বর্তমানে গুগলের সাশ্রয়ী দামের ক্রোমবুকের আধিপত্য রয়েছে।

আইফিক্সইটের প্রধান নির্বাহী কাইল উইন্স বলেছেন, এসব ক্রোমবুক প্রায়ই সারানো হয়। এসব ল্যাপটপ সারানোর জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের মতো কিছু স্কুল ডিস্ট্রিক্টের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্ন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে সারানোর দিক থেকে অ্যাপলের নতুন ল্যাপটপটি আইফিক্সইটের স্কেলে ১০-এর মধ্যে কেবল ৬ নম্বর পেয়েছে। যেখানে ‘লেনোভো থিংকপ্যাড’-এর মতো অন্যান্য ল্যাপটপ পেয়েছে ৯ বা ১০ নম্বর।

গত এক দশকে অ্যাপল তাদের ডিভাইসগুলোকে আরও পাতলা ও হালকা করার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে তাদের পণ্যগুলো সারানো দিন দিন কঠিন হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি অ্যাপল। উইন্স বলেছেন, এ ল্যাপটপটির অন্যতম সীমাবদ্ধতা হচ্ছে এর ৮ জিবি ডি-র‌্যাম, যা সরাসরি মাদার বোর্ডের প্রসেসিং চিপের সঙ্গে ঝালাই করে বসানো। গত কয়েক বছরের অ্যাপল ম্যাক ডিজাইনের মতোই ম্যাকবুক নিওকে তৈরি করেছে অ্যাপল। ফলে পরবর্তী সময় চাইলেও এর মেমরি বা ডি-র‌্যাম আর বাড়ানো সম্ভব হবে না।

উইন্স বলেছেন, ফলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন এআই অ্যাপ যখন আরও জটিল হবে তখন এসব ল্যাপটপে সেগুলো চালানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে। অ্যাপল দাবি করেছে, ক্লাউডের বদলে সরাসরি ল্যাপটপে এআই চালানো অনেক বেশি নিরাপদ ও ব্যক্তিগত। এরপরও ডি-র‌্যাম বাড়ানোর সুবিধা না থাকলে এটি পিছিয়ে পড়বে। উইন্স পরামর্শ দিয়েছেন, অ্যাপল যদি আলাদাভাবে মেমরি চিপ যোগের সুযোগ রাখত তবে ব্যবহারকারীরা সহজেই তা আপডেট করে নিতে পারতেন। ‘অ্যাপল প্রাইভেসির কথা মাথায় রেখে যদি এআইয়ের ভবিষ্যৎ গড়তে চায় তবে তাদের লোকাল মডেলের (ডিভাইসে থাকা এআই) ওপর জোর দিতে হবে। আমার মতে, মেমরি আপডেট করতে না পারাটা অ্যাপলের পুরো ম্যাক প্রোডাক্ট লাইনেরই বড় এক ত্রুটি।’