কৃষিই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হবে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। গতকাল কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে ঈদ পরবর্তী কর্মদিবসে শুভেচ্ছা বিনিময় উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল-ই মোহামেদ ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফিরোজ সরকার।
কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতর মূল বুনিয়াদ কৃষি। সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। ইতিমধ্যে দেশে খাল খনন কর্মসূচি চালু হয়েছে। কৃষিকে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি করতে সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। কৃষি খাতকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশ্বের যে কোনো দেশের চেয়ে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি ও পরিবেশ কৃষির জন্য ভালো। বৈজ্ঞানিক উপায়ে চাষাবাদ করলে চাহিদার চেয়েও অধিক পরিমাণে খাদ্য উৎপাদন করা সম্ভব।
মন্ত্রী কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়, আওতাধীন দপ্তর সংস্থার সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের জনগণের সুষম খাদ্যের চাহিদা পূরণ ও আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর দেশ রেখে যাওয়ার জন্য আমরা দায়বদ্ধ। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে আমরা একটি সুন্দর দেশ রেখে যেতে পারব।
মন্ত্রী আরও বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা আগামীর দিনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে। কৃষি ও খাদ্য বিভাগের সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সবাইকে দক্ষতার পাশাপাশি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সরকার দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ করবে। বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করে দেশকে সবুজায়ন করতে হবে। জলবায়ুর অভিঘাত মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের এ আন্দোলন সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।
একই দিনে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করে যুগোপযোগী উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এ ধরনের পরিবর্তন এলে দেশ উপকৃত হবে।