মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমশ বিস্তৃত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। মঙ্গলবারের (২৪ মার্চ) এ ফোনালাপে আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল সৌদি অবকাঠামোর উপর ইরানের হামলা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার চেষ্টা।
ব্রিটিশ সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্টারমার সৌদি অবকাঠামোর উপর ইরানের ক্রমাগত হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং লন্ডনের গভীর উদ্বেগ স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটের মুহূর্তে সৌদি আরবের পাশে থাকার ব্রিটেনের অঙ্গীকার পুনরায় নিশ্চিত করেছেন।
দুই নেতা বিশেষভাবে হরমুজ প্রণালী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে যায়। ইরান-ইসরায়েল সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে প্রণালীতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এই প্রণালী পুনরায় সচল করতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ফোনালাপের ঠিক আগের দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং ১৫ দফা প্রস্তাব তেহরানে পাঠানো হয়েছে। তবে ইরানের সামরিক মুখপাত্র সেই প্রস্তাবকে বিদ্রূপ করে বলেছেন, 'আমেরিকা নিজেই নিজের সঙ্গে কথা বলছে।'
পশ্চিমা মিত্রদের এই কূটনৈতিক তৎপরতা এমন সময়ে এসেছে যখন ইসরায়েল তেহরানে নতুন হামলা চালিয়েছে এবং ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী কুয়েত ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতি যত জটিল হচ্ছে, ততই যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।