'বিশ্বকাপে ব্রাজিল ফেভারিট নয়', বললেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইউরোপ কাঁপানো ফর্ম এবার জাতীয় দলের জার্সিতেও টেনে আনতে মুখিয়ে আছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বৃহস্পতিবার বোস্টনে ফ্রান্সের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ প্রীতি ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে নিজের আত্মবিশ্বাস ও বিশ্বকাপের পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

বর্তমানে ক্যারিয়ারের সেরা ছন্দে থাকা ভিনিসিয়ুস বলেন, "আমি এখন আমার জীবনের সবচেয়ে সুখী মুহূর্তটি পার করছি। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে আমি যা করি, তার সবটুকুই জাতীয় দলের হয়ে এখানে করতে চাই। বাইরের মানুষ কী বলছে, তাতে আমি খুব একটা কান দিই না। আমি জানি আমার কাজ কী এবং বিশ্বকাপের জন্য আমি কতটা নিবেদিত।"


দলে নেইমারের অনুপস্থিতিতে আক্রমণের মূল দায়িত্ব এখন ভিনির কাঁধে। তবে এই চাপ সামলাতে তিনি প্রস্তুত। তিনি বলেন, "সবাই চায় আমি অন্যতম প্রধান চরিত্র হয়ে উঠি। আমি ক্যারিয়ারের সব চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত। আমি ইতিমধ্যে একটি বিশ্বকাপ খেলেছি এবং আর হারতে চাই না। ইনজুরি এড়িয়ে চলার জন্য আমি বাড়িতেও কঠোর পরিশ্রম করছি।"

নিজেকে একা নয়, বরং দলের তরুণ তুর্কিদের ওপরও ভরসা রাখছেন তিনি। তার মতে, রাফিনহা, জোয়াও পেদ্রো কিংবা এন্দ্রিক ও এস্তেভাওয়ের মতো তরুণরা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
অনেক তারকা খেলোয়াড় ফর্মে থাকলেও ব্রাজিলকে এখনই বিশ্বকাপের একক ফেভারিট বলতে নারাজ ভিনি। গত কয়েক বছরে বারবার কোচ পরিবর্তন (তিনজন কোচ) এবং অনিয়মিত ফলাফলের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, "সাম্প্রতিক ফলাফল বিবেচনায় নিলে আমি মনে করি না আমরা ফেভারিট। তবে এই জার্সির ওজন এবং আমাদের খেলোয়াড়দের মান... আমাদের শুধু ঠিকঠাক জ্বলে ওঠা প্রয়োজন।

আনচেলত্তি আসার পর আমরা কীভাবে খেলতে হবে সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছি। তিনি আমাদের ওপর থেকে অনেক চাপ কমিয়ে দেন। আমরা ফেভারিট হতে চাই না, আমরা চাই ব্রাজিলকে আবারও সবার ওপরে নিয়ে যেতে।"

বর্তমান স্কোয়াড নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি দলের প্রাণভোমরা নেইমারকেও স্মরণ করেন। চোটের কারণে এবারের আন্তর্জাতিক বিরতিতে নেইমার দলে না থাকলেও তাকে নিয়ে ভিনির মন্তব্য ছিল আবেগঘন, "নেইমার আমার আদর্শ। তিনি ব্রাজিলীয় জাতীয় দলে ফিরে আসার জন্য এবং নিজেকে শতভাগ ফিট করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন তার সবকিছুই করছেন। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কোচের হাতে, কিন্তু আমরা খেলোয়াড় হিসেবে সব সময় সেরাদের সাথেই খেলতে চাই।"

ভিনিসিয়ুস আরও যোগ করেন যে, নেইমারের উপস্থিতি দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। দলের তরুণ খেলোয়াড়রা নেইমারকে দেখে অনুপ্রাণিত হয় এবং বড় মঞ্চে নেইমারের অভিজ্ঞতা ব্রাজিলের জন্য অমূল্য।

রিয়াল মাদ্রিদের মতো জাতীয় দলেও কার্লো আনচেলত্তিকে পাশে পাওয়া ভিনিসিয়ুসের জন্য বড় স্বস্তির। তার মতে, আনচেলত্তির গেমপ্ল্যান এবং খেলোয়াড়দের স্বাধীনতা দেওয়ার ধরণ ব্রাজিলকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। সেট-পিস কিংবা ব্যক্তিগত নৈপুণ্য—যেকোনোভাবেই হোক, লক্ষ্য একটাই: ব্রাজিলকে হেক্সা জয়ের পথে রাখা।