হালিশহরের ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণের কারণ জানা যায়নি এক মাসেও

চট্টগ্রামের হালিশহরের একটি ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণের ঘটনার এক মাস পার হয়ে গেলেও এখনো ঘটনার কিনারা হয়নি। কিছুদিন আগে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) ঘটনার তদন্ত শেষে সংস্থাটির প্রধানের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়ে তদন্ত কমিটি জানিয়েছে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেনি। প্রতিবেদনে বিস্ফোরণের সম্ভাব্য কিছু কারণ উল্লেখ করা হলেও ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তার সঠিক ও নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানাতে পারেনি তদন্ত কমিটি।

এদিকে ঘটনার এক মাস পার হয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি। অথচ দুটি কমিটিকেই সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল।

কেজিডিসিএল কর্র্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি বিস্ফোরণের প্রধান কারণ গ্যাস লিকেজ নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছে। তবে গ্যাসজনিত দুর্ঘটনা এড়াতে চুলা জ্বালানোর আগে ১৫-২০ মিনিট দরজা-জানালা খুলে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন নিশ্চিত করার পরামর্শ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে হালিশহরের হালিম মঞ্জিলের তৃতীয়তলার ওই ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের ৯ জন দগ্ধ হন, যাদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছে তিন শিশু।

ওই ঘটনায় কেজিডিসিএলের বিতরণ উত্তর বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রফিক খানকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন প্রসঙ্গে কেজিডিসিএল কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিক খান বলেন, ‘প্রতিবেদনে বিস্ফোরণের সম্ভাব্য কারণ উল্লেখ আছে।’

এদিকে এক মাসেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শেষ হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’

কেজিডিসিএল তদন্ত প্রতিবেদন অনুসারে, বিস্ফোরণস্থলে বেশ কিছু জিনিসপত্র অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। রান্নাঘরের চুলার পেছনের লাইনে সামান্য লিকেজ পাওয়া গেলেও রান্নাঘরে দুটি দরজা, বড় জানালা ও ভেন্টিলেশন থাকায় সেখানে গ্যাস জমে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। বিস্ফোরণের সময় তীব্র ঝাঁকুনির কারণে গ্যাসলাইনে ক্ষতি হয়ে পরবর্তী সময়ে লিকেজ তৈরি হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, বাসায় গাড়ির যন্ত্রাংশের কিছু কমপ্রেসিং ইউনিট ছিল, যেগুলোতে উচ্চ চাপে গ্যাস থাকে। এ ছাড়া গাড়িতে রঙ করার কাজে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিক পদার্থও সেখানে সংরক্ষণ করা ছিল। এসব দাহ্য পদার্থ থেকে কোনোভাবে আগুনের সঞ্চার হয়ে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুতের সংযোগ, রাসায়নিক পদার্থ বা যন্ত্রাংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।

কেজিডিসিএল তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, ফ্ল্যাটের ভেতরে পাঁচটি স্থানে বিস্ফোরণ হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি স্থান ছিল বারান্দাগুলোর কাছাকাছি। বিস্ফোরণের আলামত সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে রান্নাঘরের সঙ্গে লাগোয়া বারান্দা এবং পাশের করিডরে। ড্রয়িংরুমে থাকা আইপিএসের ব্যাটারিও বিস্ফোরণের ধাক্কায় এক পাশে ছিটকে পড়েছে। ঘরের আসবাবপত্রের অধিকাংশই পুড়ে গেছে।

জানা গেছে, হালিম মঞ্জিলে  বিস্ফোরণ ঘটেছে তৃতীয়তলায়। তৃতীয়তলায় শাখাওয়াতের ফ্ল্যাট ছাড়াও আরও তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে। বিস্ফোরণে ভবনের দোতলা থেকে পাঁচতলা পর্যন্ত প্রত্যেক ফ্ল্যাটের দরজা-জানালা ভেঙে গেছে।

হালিম মঞ্জিলের মালিক যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী দিদারুল আলম। ২০১০ সালে তিনি ভবনটি নির্মাণ করেন।  তিনি বলেন, ‘ভবনের গ্যাসলাইনে কোনো লিকেজ ছিল না।’