কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে বাস-ট্রেনের সংঘর্ষে ১২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে র্যাব। দুর্ঘটনার সময় ওই লেভেল ক্রসিংয়ে দায়িত্বরত দুই গেটম্যানের কেউই ঘটনাস্থলে ছিলেন না। পরে তারা আত্মগোপন করেন। এ ঘটনায় গেটম্যান মো. হেলালকে কুমিল্লার শংকুচাইল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-১১-এর উপঅধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. নাঈম উল হক। তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার বুড়িচং থানাধীন শংকুচাইল এলাকা থেকে মো. হেলাল নামের ওই গেটম্যানকে আটক করা হয়। তিনি এ ঘটনায় হওয়া মামলার এক নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।
র্যাব কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় কর্তব্যরত গেটম্যান লেভেল ক্রসিংয়ের গেট বন্ধ না করায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় দুই গেটম্যান মো. হেলাল ও মেহেদী হাসান কেউই ছিলেন না। তাদের দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটে। আটক হেলালকে লাকসাম রেলওয়ে থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং অন্য আসামিকে আটকে র্যাবের অভিযান চলছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
গত ২২ মার্চ রাত ৩টা ১০ মিনিটে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের নিচে লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় যশোর থেকে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ১২ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হন। এ ঘটনায় বাসের যাত্রী নিহত সোহেল রানার খালা বাদী হয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানায় মামলা করেন। মামলায় ওই লেভেল ক্রসিংয়ের দুই গেটম্যানকে আসামি করা হয়।
নিহতদের মরদেহ হস্তান্তর : কুমিল্লায় রেল-বাস সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেলা পুলিশ। এ ছাড়াও এই ঘটনায় হতাহতদের উদ্ধার কার্যক্রম, লাশ হস্তান্তর এবং মামলা দায়ের এবং আসামি গ্রেপ্তারসংক্রান্ত কাজও করে। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেলা পুলিশ সূত্রে তথ্য জানা গেছে।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশ প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমানের তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেলা পুলিশ সুপার তহুরা জান্নাতের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেলা পুলিশ, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিকটিমদের উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং রেল চলাচল স্বাভাবিক করে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেলা পুলিশ দুর্ঘটনায় নিহত ১২ লাশের সুরতহাল শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেলা পুলিশের সহায়তায় এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার লাকসাম রেলওয়ে থানায় মামলা করে। মামলার পর আসামি গ্রেপ্তারে চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশ কার্যক্রম শুরু করে। পরে র্যাবের সহযোগিতায় মামলার এজাহারনামীয় ১নং আসামি হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই মামলায় এজাহারনামীয় আসামি কাওছার হোসেন পালাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।