বয়স যে শুধুই একটি সংখ্যা, তা আবারও প্রমাণ করলেন মোহাম্মদ রফিক। মিরপুরের সবুজ ঘাসে যখন বল হাতে দৌড়ালেন কিংবা ব্যাট হাতে চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছোটালেন, তখন বোঝার উপায় ছিল না যে তাঁর বয়স ৫৫ বছর। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত প্রীতি ম্যাচে সাবেক ক্রিকেটারদের মিলনমেলায় আজ সব আলো কেড়ে নিলেন এই বাঁহাতি কিংবদন্তি। তাঁর অলরাউন্ড নৈপুণ্যে বিসিবি সবুজ দলকে ১২৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে বিসিবি লাল দল।
ব্যাটে রফিক-নাসিরের তাণ্ডব
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নামে বিসিবি লাল দল (৭১ নম্বর জার্সি)। শুরুতেই মেহরাব হোসেন অপি দ্রুত বিদায় নিলেও হাল ধরেন নাসির উদ্দিন ফারুক সজীব এবং মোহাম্মদ রফিক। নাসির উদ্দিন ৫৩ বলে ৮৪ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৫টি চার ও ৬টি ছক্কার মার।
তবে গ্যালারির দর্শকদের আসল বিনোদন দিয়েছেন মোহাম্মদ রফিক। মাত্র ২৪ বলে ৫০ রান করে ড্রেসিংরুমে ফেরার আগে ৪টি চার ও ৪টি ছক্কা হাঁকান তিনি। শেষদিকে ডলার মাহমুদের ৯ বলে ২৭ রানের ঝোড়ো ক্যামিওতে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২১৩ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ দাঁড় করায় লাল দল। সবুজ দলের পক্ষে ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স ২টি উইকেট শিকার করেন।
২১৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে বিসিবি সবুজ দল (২৬ নম্বর জার্সি)। ওপেনার শাহরিয়ার নাফিস ১৯ বলে ৩৩ রান (৪ চার ও ২ ছক্কা) করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। মোহাম্মদ আশরাফুলের এক ওভারে দুটি ছক্কা মেরে নিজের সামর্থ্যের জানান দিলেও অন্য প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে। আব্দুর রাজ্জাক ১৪ বলে ১৮ রান করলেও দলের বাকি কেউ দুই অঙ্কের কোটা ছুঁতে পারেননি। বোলিংয়ে এসে প্রথম বলেই উইকেট নিয়ে নিজের ট্রেডমার্ক উদযাপনে মেতে ওঠেন রফিক। ৩.২ ওভার বল করে মাত্র ১৮ রান দিয়ে শিকার করেন ৪টি উইকেট।
তবে বল হাতে সবচেয়ে ভয়ংকর ছিলেন ইলিয়াস সানি; তিনি ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে তুলে নেন ৫টি উইকেট। তাদের দুজনের ঘূর্ণি জাদুতে ১৫.২ ওভারে মাত্র ৯০ রানেই গুটিয়ে যায় সবুজ দল।
মিরপুরে সাবেক তারকাদের মিলনমেলা
প্রতি বছরের মতো এবারও স্বাধীনতা দিবসে সাবেক ক্রিকেটারদের নিয়ে এই প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করে বিসিবি। আশরাফুল, নাফিস, রাজ্জাক, খালেদ মাসুদ পাইলট এবং তালহা জুবায়েরদের উপস্থিতিতে মিরপুরের হোম অব ক্রিকেট আজ হয়ে উঠেছিল স্মৃতিকাতর। হারের তিক্ততা থাকলেও সাবেক সতীর্থদের সঙ্গে এমন আনন্দঘন সময় কাটাতে পেরে হাসিমুখেই মাঠ ছেড়েছেন সবাই।