মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ভোলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬মার্চ) ভোলা জেলা প্রশাসকের হলরুমে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভোলার জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার, পিপিএম (বার)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, ২৬ মার্চ আমাদের জাতির ইতিহাসে এক গৌরবময় দিন। এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের এবং সম্মান জানাই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। তাদের ত্যাগের বিনিময়েই আমরা আজ স্বাধীন দেশের নাগরিক। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনা বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল শোষণমুক্ত ও সাম্যভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। দেশের কৃষক ও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সাম্য নিশ্চিত করার মাধ্যমেই প্রকৃত স্বাধীনতার সুফল পাওয়া সম্ভব। রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে সরাসরি যুদ্ধের অভিজ্ঞতা শোনা আমাদের জন্য গর্বের। প্রকৃত সাম্য তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট দূর হবে এবং তারা অর্থনৈতিক মুক্তি পাবে।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধারা, বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বীর সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এ অনুষ্ঠানটি এক প্রেরণাদায়ী ও আবেগঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়।