কফি পানে অ্যাসিডিটি কেন হয়

অনেকেরই প্রিয় পানীয়ের তালিকায় কফি আছে। অনেকের কাছে সকালের কফি শুধু একটি পানীয় নয়, বরং দিনের শুরু করার অতি প্রিয় অভ্যাস। কিন্তু অনেক সময় এই অভ্যাসই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কফি খাওয়ার পর বুকজ্বালা, অ্যাসিডিটি বা গলায় জ্বালাভাব অনুভব করলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, কফি অ্যাসিড রিফ্লাক্সের অন্যতম কারণ। অ্যাসিড রিফ্লাক্স এমন এক হজমজনিত সমস্যা, যেখানে পাকস্থলীর অ্যাসিড ওপরের দিকে উঠে খাদ্যনালিতে চলে আসে। এর ফলে বুকে জ্বালা ভাব বা অস্বস্তি তৈরি হয়।

কফির প্রাকৃতিক অ্যাসিড : কফির মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে কিছু অ্যাসিড থাকে। এই অ্যাসিড পাকস্থলীর আবরণ এবং খাদ্যনালিকে উত্তেজিত করতে পারে, যার ফলে বুকজ্বালা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

ক্যাফিনের প্রভাব : কফির অন্যতম প্রধান উপাদান ক্যাফিন। এটি খাদ্যনালি ও পাকস্থলীর মাঝখানে থাকা একটি পেশিকে শিথিল করে দেয়, যাকে লোয়ার ইসোফেজিয়াল স্পিঙ্কটার বলা হয়। এই পেশি ঢিলা হয়ে গেলে পাকস্থলীর অ্যাসিড সহজেই ওপরের দিকে উঠে আসতে পারে।

পাকস্থলীতে অ্যাসিড উৎপাদন বৃদ্ধি : কফি পাকস্থলীতে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। ফলে যাদের পেট সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে।

কফির পরিমাণ ও তাপমাত্রা : একসঙ্গে বেশি পরিমাণে কফি খাওয়া বা খুব গরম কফি পান করলে পাকস্থলীতে জ্বালা বাড়তে পারে এবং অ্যাসিডিটির সমস্যায় তীব্র হতে পারে।

যাদের গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (এঊজউ) আছে, যারা প্রতিদিন অনেক কাপ কফি পান করেন, যারা খালি পেটে কফি খান অথবা যারা কফির সঙ্গে বেশি তেল-মসলাযুক্ত খাবার খান তাদের ঝুঁকি বেশি। এ ছাড়া ক্যাফিনের প্রতি সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। যদি নিয়মিত বুকজ্বালা, মুখে টক স্বাদ, পেট ফাঁপা বা গলায় জ্বালা অনুভব করেন, তাহলে কফি তার একটি কারণ হতে পারে।