৩১ মার্চের মধ্যেই ক্ষমতা হারাচ্ছেন নেতানিয়াহু!

ইরান যুদ্ধকে পুঁজি করে ফের ক্ষমতায় আসার ছক কষেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইরানকে ইসরায়েলিদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে ভেবেছিলেন তিনি। ধারণা ছিল, ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিজের ও দলের জনপ্রিয়তা বাড়াবে। কিন্তু ঘটলো হিতে বিপরীত!

এই যুদ্ধ ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। ক্ষমতাসীনদের জনপ্রিয়তা কমেছে। দেশটির আইন অনুযায়ী, ৩১ মার্চের মধ্যে পার্লামেন্টে বাজেট পাস করতে হবে। না হলে আগাম তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এই পরিস্থিতিতে আগাম নির্বাচন এড়াতে রাষ্ট্রীয় বাজেট দ্রুত পাস করাতে মরিয়া নেতানিয়াহু। কারণ, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভোট হলে তার পরাজয়ের আশঙ্কা বেড়েছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর সময় নেতানিয়াহুর হিসাব ছিল ভিন্ন। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহতের পর তিনি আগাম নির্বাচনের সুযোগ দেখেছিলেন। মার্চের শুরুতে ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টি তাদের জনপ্রিয়তা সর্বোচ্চ বলে দাবি করে। কারণ চলতি বছরের অক্টোবরে জাতীয় নির্বাচনের কথা ছিল। ইরানে হামলার জের ও জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে আগাম নির্বাচনে জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন নেতানিয়াহু। সেজন্য কৌশলের আশ্রয় নেয় তার দল।

কিন্তু চার সপ্তাহ পার হলেও যুদ্ধের মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। তাই আগাম নির্বাচন ঠেকাতে উঠে পড়ে লেগেছে ইসরায়েল সরকার। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে মিত্রদের জন্য বাড়তি তহবিল বরাদ্দ ও দ্রুত বাজেট পাসের উদ্যোগ নিয়েছে তারা।

গাজা ইস্যু থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ইরান প্রসঙ্গে জনসমর্থন কিছুটা পেলেও ভোটের অঙ্ক বদলায়নি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকেই নেতানিয়াহুর ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রমেই জনসমর্থন হারাচ্ছেন তিনি।

টাইমস অব ইসরায়েলের এক জরিপে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ১২০ আসনের মধ্যে ২৮টি আসন জিতবে। তার জোটের মোট আসন দাঁড়াবে ৫১-তে, যা সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট নয়।

এদিকে দীর্ঘ যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতে। প্রতি সপ্তাহে ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ১৬ লাখ ডলার। প্রতিরক্ষা ব্যয় বেড়েছে। মিত্রদের সমর্থন ধরে রাখতে অতি রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলোকে বাড়তি বরাদ্দ দিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে সময় বাড়িয়ে সরকার টিকিয়ে রাখাই এখন নেতানিয়াহুর মূল কৌশল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।