বানর কথা  

বন্য প্রাণীর মধ্যে বানর অন্যতম। তারা হাঁটা এবং লাফিয়ে বেড়াতে পছন্দ করে। ধারণা করা হয়, বানরের উৎপত্তি ট্রপিক্যাল রেইন ফরেস্ট থেকে। পৃথিবীতে এদের আবির্ভাবের পূর্বেও, প্রাণের অস্তিত্ব ছিল এবং সময়ের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রূপান্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী এসেছে। আদি প্রাণীর সঙ্গে বানরের সবচেয়ে বড় পার্থক্য, লেজে। আদি প্রাণীগুলো আকারের দিক থেকে বানরের চেয়ে বড় ছিল এবং তাদের মস্তিষ্কের আকৃতিও বৃহৎ।  মজার বিষয় হলো, মানুষের মতো বানর দলবদ্ধ হয়ে বসবাস করতে পছন্দ করে। তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে। চিড়িয়াখানা কিংবা বনে গেলে দেখা যায়, তারা একে অপরকে উকুন বা বিভিন্ন অপরিচ্ছন্নতা থেকে নিজেকে পরিষ্কার করার চেষ্টা করে। দক্ষিণ আমেরিকায় অ্যামাজনের উপকূলে পিগমি মারমোসেট নামের এক প্রজাতির বানর খুঁজে পাওয়া গেছে। যার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা করে পশু বিজ্ঞানীরা এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, এরাই পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ছোট প্রজাতির বানর। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, বানররা মানুষকে হুবহু অনুকরণ করতে পারে। তাদের বিচার-বুদ্ধি প্রবল। কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ সহজেই তারা সেটি আন্দাজ করতে পারে। কোনোদিন কোনো সুস্থ বানর মানুষের ক্ষতি করে না। এমনকি বনের অনেক নিরীহ প্রাণীকে তারা হিংস্র পশুর হাত থেকে কৌশলে রক্ষার চেষ্টা করে। সাধারণত একটি বানরের আয়ু প্রজাতি ও পরিবেশ ভেদে ১০ থেকে ৬০ বছর।