স্বাধীনতা দিবসের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী

সমাজের সবাইকে নিয়ে ভালো থাকতে চাই

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের আকাক্সক্ষা সীমাহীন হলেও সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে। তবে ঐক্যবদ্ধভাবে সবাই কাজ করতে পারলে কাক্সিক্ষত স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বলেন, এ সরকার গণতান্ত্রিক সরকার। সবাই ভালো থাকব, একটি অংশ নয়, সমাজের সবাইকে নিয়ে ভালো থাকতে চাই এটাই হোক স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার।’ গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিকট অতীতেও দেখেছি, অতীত নিয়ে এত বেশি চর্চা হয়েছে; যেটা আমাদের সামনে যে সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ আছে সেই ভবিষ্যৎকে বাধাগ্রস্ত করেছে। অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীত ভুলে গেলে দুই চোখ অন্ধ। তাই অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে যেমন হবে না, তেমনি অতীত ভুলে গেলেও চলবে না। সুতরাং অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে গিয়ে সেটি যেন আমাদের ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে বিঘ্ন সৃষ্টির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।’

তারেক রহমান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে কথা হবে, গবেষণা হবে। কিন্তু ইতিহাস নিয়ে এমন কিছু বলা যাবে না, যাতে মুক্তিযুদ্ধের গৌরব ও ইতিহাসকে খাটো করা হয়।’ তিনি বলেন, “অতীতে দেখা গেছে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকাকে খাটো করা হয়েছে। কিন্তু এটা প্রমাণিত, তার ভূমিকা ছিল অনিবার্যতা। তার একটি লেখায় ফুটে উঠেছে, স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘ মানসিক প্রস্তুতি ছিল জিয়াউর রহমানের। দৈনিক বাংলায় ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ক্রোড়পত্রে জিয়াউর রহমানের প্রবন্ধ ছাপা হয়। প্রবন্ধটি প্রকাশের পর কোনো আপত্তি পাইনি। এরপর ১৯৭৪ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় প্রকাশিত হয় জিয়াউর রহমানের একটি প্রবন্ধ ‘একটি জাতির জন্ম’, সেটি নিয়ে তৎকালীন সরকার বা কারও কাছ থেকে কোনো আপত্তি আসেনি। যদিও শহীদ জিয়াউর রহমানকে খাটো করার অপচেষ্টা হয়েছে। তবে অনবদ্য চরিত্র লুকানোর কোনো অবকাশ নেই।”

তরুণ প্রজন্মের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অনিবার্য চরিত্র। তিনি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে হয়তো বেড়ে ওঠেননি, তিনি সৈনিক ছিলেন এবং তিনি একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্ন লালন করতেন। সচেতনভাবেই তিনি স্বাধীনতার চিন্তা-চেতনা ধারণ করতেন। তিনি হঠাৎ করেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। এর জন্য তার দীর্ঘ মানসিক প্রস্তুতি ছিল, তিনি ছিলেন অপেক্ষায়।’

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমাদের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ কোনো দলের ছিল না। এটি ছিল ‘জনযুদ্ধ’। বছরের পর বছর এমনকি যুগের পর যুগ ধরে লড়াই করেও যারা এখনো স্বাধীন হতে পারেননি, একমাত্র তাদের পক্ষেই স্বাধীনতার মূল্য সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লাখো প্রাণের বিনিময়ে আমরা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ২০২৪ সালে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষা করেছি। প্রতিটি প্রাণেরই একটি স্বপ্ন ছিল, একটি আকাক্সক্ষা ছিল। সেই আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নের জন্য তারা সাহসের সঙ্গে অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করেছিলেন। নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন। ১৯৭১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত সব প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে সব শহীদের আকাক্সক্ষা ছিল, সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক তাঁবেদারমুক্ত একটি স্বাধীন সার্বভৌম নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।’

তিনি বলেন, “আমাদের আকাক্সক্ষা সীমাহীন হলেও সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমাদের ‘সাধ এবং সাধ্যে’র মধ্যে ফারাক থাকলেও আমি বিশ্বাস করি, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাই তাহলে স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা অসম্ভব নয়। সেই লক্ষ্য পূরণের জন্যই বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে টার্গেট করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খননসহ বিভিন্ন রকম কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। জনগণের জীবন মানোন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন শুরু করেছে।’

বিএনপির প্রচার সম্পাদক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ। আরও অংশ নেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ওয়াকিল আহমেদ, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এর আগে বেলা ৩টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আলোচনা শুরু হয়। দোয়া পরিচালনা করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা নেসারুল হক। এরপর দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

আজ নয়াপল্টনে যাবেন তারেক রহমান : প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আজ শনিবার প্রথমবারের মতো নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল শুক্রবার বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শায়রুল বলেন, ‘আগামীকাল (শনিবার) বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাবেন। বিএনপি চেয়ারম্যানের আগমন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এরই মধ্যে কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।’

এদিকে কার্যালয়ে কর্মরত স্টাফরা দেশ রূপান্তরকে জানান, দলের চেয়ারম্যান কার্যালয়ে আসবেন। এ কারণে গত কয়েক দিন ধরে কার্যালয় ধোয়ামোছা চলেছে। কার্যালয়ের দোতলায় তার রুম প্রস্তুত করা হয়েছে।

এর আগে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দেশে ফিরে গত ২৯ ডিসেম্বর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান তারেক রহমান। এ সময় দলের নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানাতে ভিড় করেন। বিকেল ৩টায় তারেক রহমান গুলশান অ্যাভিনিউয়ের বাসভবন থেকে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উদ্দেশ্য রওনা করেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তারেক রহমান বিকেল ৪টায় এসে পৌঁছালে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ফুল দিয়ে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অভ্যর্থনা জানান।

এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম ও দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।