শখের বশে শত শত পাখি শিকার!

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় ‘শখের বশে’ সাত বস্তা পরিযায়ী পাখি শিকার করে প্রশাসনের শাস্তির মুখে পড়েছেন এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাসহ ছয়জন। গত বৃহস্পতিবার রাতে জেলার গজারিয়া উপজেলার মাথাভাঙ্গা এলাকায় স্থানীয়রা তাদের আটকে রাখেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে অভিযুক্তদের অর্থ দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডিতরা হলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আ. স. ম. হাদিউল ইসলাম ভূঁইয়া, আবরার উদ্দিন আহমেদ, হাজী ওসমান আলী, মাজহারুল হক কোরেশী, আব্দুল্লাহ নূর ও আরিক আহমেদ।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকা থেকে প্রাইভেটকারে করে ছয়জন গজারিয়ায় আসেন। তাদের কাছে শটগান ও এয়ারগান ছিল। ট্রলারে করে তারা গজারিয়ার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় পাখি শিকার করেন। সন্ধ্যায় ফেরার সময় স্থানীয়রা দেখতে পান, তারা প্রায় চার মণ পাখি শিকার করেছেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা তাদের গতিরোধ করেন। মাথাভাঙ্গা গ্রামের ঈদগাহ এলাকায় সাত বস্তা পাখিসহ তাদের আটকে রাখা হয়। রাত ১০টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শী আরমান হোসেন বলেন, ‘তারা যেভাবে শিকার করেছেন, তা যুদ্ধের প্রস্তুতির মতোই মনে হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের বন্দুক ও গুলির কৌটা ছিল তাদের কাছে। এক দিনেই তারা কয়েক হাজার পরিযায়ী পাখি হত্যা করেছেন। সাত বস্তায় অন্তত চার মণের বেশি পাখি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মুক্তার হোসেন বলেন, ‘এক দিনে শত শত পাখি মেরে ফেলা হলে আমাদের প্রকৃতি থেকে অচিরেই পাখি হারিয়ে যাবে।’

অভিযুক্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আ. স. ম. হাদিউল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, তার কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না। শুধু শখের বশেই পাখি শিকার করেছেন তিনি। এর আগেও একাধিকবার গজারিয়ায় পাখি শিকার করতে এসেছিলেন।

গজারিয়ার ইউএনও মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। প্রাথমিক তদন্ত ও অভিযুক্তদের বক্তব্যে ঘটনার সত্যতা মেলে। বয়স্ক ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় কারাদণ্ড না দিয়ে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর আওতায় অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড না করার জন্য তাদের সতর্ক করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে ১ লাখ টাকা এবং বাকিদের প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। শিকারে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি জব্দ করা হয়েছে।’