দ্বিগুণ ভাড়া নিয়েও মাঝপথে যাত্রী নামিয়ে দিল বাস

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের পরও মাঝপথে যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের মাঝপথে নামিয়ে দিয়ে বাস চলে যাওয়ায় সূর্য্য ভিআইপি বাস কাউন্টার অবরুদ্ধ করে ভুক্তভোগীরা। ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে এমন ঘটনার শিকার হয়ে ঢাকাগামী যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

ঈদের সপ্তম দিন গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসানগঞ্জের খুজিয়ার মোড়স্থ সূর্য্য ভিআইপি বাস কাউন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত ভাড়ার দ্বিগুণ টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও কর্মস্থলে ফিরতে না পারায় দিশেহারা হয়ে পড়েন যাত্রীরা। কাউন্টার এলাকায় তাদের ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। অনেকেই স্থানীয়দের কাছে সহযোগিতা চাইছিলেন। স্থানীয়দের কেউ কেউ সহায়তার চেষ্টা করলেও মাঝপথে নামিয়ে দেওয়া ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রীর মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি ঈদ মৌসুম এলেই এমন নৈরাজ্য চালান সংশ্লিষ্ট কাউন্টার মালিক মো. আবদুল কুদ্দুস শেখ। যাত্রীদের জিম্মি করে ভাড়ার চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি টাকা আদায়ের ঘটনা আগের বছরগুলোতেও ঘটেছে বলে দাবি করেন তারা। অনৈতিকভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যেই এ ধরনের অমানবিক আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও জানান স্থানীয়রা। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারির অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা তাদের। এ ধরনের হয়রানি বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঢাকাগামী গার্মেন্টস কর্মী মোছা. রাশিদা বেগম (৩০) বলেন, গত ১৯ তারিখে সূর্য্য কাউন্টার থেকে টিকিট কেটেছিলাম। বাসে উঠে দেখি আমার সিটে অন্য একজন বসে আছেন। পরে আমাকে অন্য সিটে বসানো হয়। কিছুক্ষণ পর আরও কয়েকজন এসে ওই সিট নিজেদের দাবি করেন। বিষয়টি কাউন্টারে জানালে তারা জোর করে আমাদের বাসে তুলে দেন। বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়ে ঢাকা যাচ্ছিলাম। পরে বামনডাঙ্গায় আমাদের নামিয়ে দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে আবার হাসানগঞ্জ কাউন্টারে ফিরে এসেছি। ৫০০ টাকার টিকিট ১ হাজার ৪০০ টাকা নিয়েছে, তবুও ঢাকা যেতে পারছি না। সময়মতো কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

একই অভিযোগ করেন আরেক যাত্রী মো. মমিনুল ইসলাম (৩৫)। তিনি বলেন, ৫০০ টাকার টিকিটের জন্য ১ হাজার ৪০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। গত ২০ তারিখে টিকিট কেটেছিলাম। সন্ধ্যা ৭টায় গাড়ি ছাড়ার কথা ছিল। কাউন্টারে এসে দেখি সিট নিয়ে বিশৃঙ্খলা। পরে আমাকে নির্ধারিত সিট না দিয়ে পেছনের সিটে বসানো হয়। কিছু দূর যাওয়ার পর বামনডাঙ্গায় আমাকে নামিয়ে দেওয়া হয়।

‎অভিযোগের বিষয়ে বাস কাউন্টার মালিক মো. কুদ্দুস শেখ যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, প্রতি টিকিটে ১ হাজার ৪০০ টাকা নয়, ১ হাজার ২০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাস মালিককে প্রতি টিকিটে ১ হাজার ১০০ টাকা দিতে হয়। এখানে আমার করার কিছু নেই।

‎এ বিষয়ে বাস মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি বলেন, বিষয়টি অমানবিক। আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।