কথাটি এখন আর ভবিষ্যতের কোনো কল্পনা নয়। বরং এটি বাস্তবতা। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বিশ্বঅর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং মানবজীবনের কর্মকাঠামোকে আমূল পরিবর্তন করে দিচ্ছে। শিল্পবিপ্লব যেমন একসময় কৃষিভিত্তিক সমাজকে শিল্পভিত্তিক সমাজে রূপান্তর করেছিল, তেমনি এআই এখন মানবশ্রমের নতুন সংজ্ঞা তৈরি করছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের লক্ষ্য হলো এমন মেশিন তৈরি করা, যা মানুষের মতো কাজ করতে পারে এবং ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেম তৈরি করে মানুষের জীবনকে বিভিন্ন উপায়ে উন্নত করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এর কাজ নির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশন বা সিস্টেমের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। সাধারণভাবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মূল লক্ষ্য হলো এমনভাবে মেশিন তৈরি করা, যা এমন সব কাজ সম্পাদন করতে পারে, যেসব বিষয়ে সাধারণত মানুষের বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন হয়। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স জটিল তথ্য এবং নিয়মের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এটি জালিয়াতি শনাক্তকরণ, ক্রেডিট স্কোরিং এবং স্ব-ড্রাইভিং গাড়ির মতো অ্যাপ্লিকেশনগুলোতে ব্যবহৃত হয়। বিশ্ব জুড়ে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত এআই-নির্ভর অটোমেশনের দিকে ঝুঁকছে। ফলে একদিকে যেমন উৎপাদনশীলতা বাড়ছে, অন্যদিকে চাকরির বাজারে তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এন্ট্রি-লেভেল চাকরি কি সত্যিই বিলুপ্ত হচ্ছে? সম্প্রতি Anthropic-এর CEO Dario Amodei এক সাক্ষাৎকারে সতর্ক করে বলেছেন ‘আগামী ১ থেকে ৫ বছরের মধ্যে এআই এন্ট্রি-লেভেল হোয়াইট-কলার চাকরির প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত দখল করে নিতে পারে।’
আজকের এআই সিস্টেমগুলো ডকুমেন্ট রিভিউ, কাস্টমার সাপোর্ট, ডাটা অ্যানালাইসিস, রিপোর্ট রাইটিং এমনকি কোডিং এসব কাজ মানুষের তুলনায় দ্রুত এবং কম খরচে করতে পারছে। Anthropic স্বীকার করেছে, তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ কোড এখন এআই দ্বারা লেখা হচ্ছে। চাকরির নিরাপত্তা এবং ঝুঁকি : বাস্তবতা হলো, সব চাকরি হারিয়ে যাচ্ছে না, বরং চাকরির ধরন বদলাচ্ছে। রিপিটেটিভ ও রুটিন কাজ, জুনিয়র অ্যানালিস্ট, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর এবং বেসিক কাস্টমার সাপোর্ট তুলনামূলক নিরাপদ। যেগুলো : স্ট্র্যাটেজিক ডিসিশন মেকিং, ক্রিয়েটিভ কাজ, মানবিক যোগাযোগ (Human interaction) এবং এআই পরিচালনা ও কন্ট্রোল। অর্থাৎ, যে কাজ মেশিন করতে পারে, সেই কাজগুলো হারাচ্ছে। কিন্তু যে কাজ মেশিনকে করাতে পারে সেই সমস্ত দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে। অফিস থেকে বাসায় কাজের বাস্তবতা : এআই-এর আরেকটি বড় প্রভাব পড়েছে, কাজের পরিবেশে। তাহলে করণীয় কী? এই পরিবর্তনের যুগে সবচেয়ে বড় ভুল হবে, যে কোনো ভয় পেয়ে থেমে থাকা। বরং দরকার, এআই টুল ব্যবহার শেখা (ChatGPT, automation tools, etc), নিজের কাজের মধ্যে অটোমেশন আনা, নতুন স্কিল (AI, Data, Prompt Engineering) অর্জন করা এবং সমস্যা সমাধান ও ক্রিয়েটিভ চিন্তায় দক্ষ হওয়া। বাস্তব সত্য হলো অও আপনার চাকরি নেবে না, কিন্তু যে অও ব্যবহার করতে পারবে, সে-ই আপনার চাকরি নেবে। যারা একে ভয় পাবে, তারা প্রযুক্তিগত আধুনিকতার দৌড়ে পিছিয়ে পড়বে। আর যারা এটিকে কাজে লাগাবে, তারাই আগামী বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে। কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিতভাবেই বলা যায়- আগামীর বিশ্ব হবে দক্ষতা, অভিযোজন এবং প্রযুক্তির। প্রশ্ন একটাই, আমরা কি প্রস্তুত?
লেখক : ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড আইটি কনসাল্টিং লিমিটেড