পানাহারে নবীজির নীতিমালা

ইসলাম মানুষের জীবনের প্রতিটি দিককে ভারসাম্যপূর্ণ ও শৃঙ্খলিত করার শিক্ষা দেয়। খাদ্যগ্রহণও এর ব্যতিক্রম নয়। এখানে শুধু কী খাওয়া হবে তা নয়, বরং কীভাবে, কতটুকু এবং কোন মানসিকতা নিয়ে খাওয়া হবে, তারও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। নবীজির জীবন আমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তার পানাহারের অভ্যাস ও নীতিমালা ছিল পরিমিত, পরিশুদ্ধ ও সুসংগঠিত। এসব অনুসরণ করলে মানুষ যেমন রোগমুক্ত ও সুস্থ জীবন লাভ করতে পারে, তেমনি তার জীবন হয়ে ওঠে আরও সুশৃঙ্খল ও কল্যাণমুখী।

শরীর সুস্থ ও সুঠাম করে গঠনের জন্য হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) যেসব নীতিমালা ও বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন, তার মধ্যে একটি হলো অধিক ভোজন থেকে বিরত থাকা। অধিক ভোজন শুধু শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং চিকিৎসাশাস্ত্র অনুযায়ী অধিক ভোজনের কারণে বহু রোগ জন্ম নেয়। এ ব্যাপারে কোরআনে সতর্ক করে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা খাও এবং পান করো, তবে অপচয় করো না।’ (সুরা আরাফ ৩১)

আহার করারও একটি স্বাস্থ্যসম্মত নীতিমালা আছে। যে নীতিমালা লঙ্ঘতি হলে আহার শরীরে পুষ্টি পূরণের পরিবর্তে ক্ষতির কারণ হবে। শরীরে জন্ম নেবে নানা রোগ। আমিষ, শর্করা, লবণ ইত্যাদি যেমন খাদ্যের গুণগত মান, অনুরূপভাবে খাদ্য হালাল হওয়াও খাদ্যের অন্যতম বিশেষ গুণগত মান। আমিষ, শর্করা ইত্যাদি দেহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। আর হালাল গুণগত মান মানুষের অন্তরে সুপ্রভাব ফেলে। খাদ্য হালাল না হলে বাহ্যিকভাবে দেহের উপকার হচ্ছে বলে ধারণা হলেও মনের ওপর এর ক্ষতিকর বিরাট প্রভাব পড়ে। খাদ্যের গুণগত মান ঠিক রাখার পাশাপাশি খাদ্য গ্রহণের নীতিমালাও ঠিক রাখতে হবে।

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা ডান হাতে ভক্ষণ করো।’ (সহিহ মুসলিম) ‘তিন আঙুলে ভক্ষণ করো, আঙুল চেটে খাও।’ (বায়হাকি) ‘দস্তরখানায় ভক্ষণ করো, খাদ্যগ্রহণের আগে বিসমিল্লাহি ওয়া আলা বারাকাতিল্লাহ বলো।’ (মুসনাদে আহমদ) এসবই হলো ইসলামি আদর্শ তথা সুন্নত। হজরত রাসুলুল্লাহর (সা.)-এর সুন্নত বিবর্জিত জীবন কখনো প্রশান্তিময় হতে পারে না। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সুন্নত অনুযায়ী জীবন অতিবাহিত করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : মাদ্রাসাশিক্ষক ও প্রবন্ধকার