বাজে ম্যাচ খেলে চিন্তায় আর্জেন্টিনা

২০২৬ বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণার আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। এমন সময়ে ঘরের মাঠ লা বোমবোনেরায় মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় পেলেও মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না আর্জেন্টাইন ফুটবল ভক্ত ও বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে লিওনেল মেসির উপস্থিতি সত্ত্বেও দলের নিস্পৃহ খেলা কপালে ভাঁজ ফেলেছে কোচ লিওনেল স্কালোনির।

ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ১১৫ নম্বর দল মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কাছ থেকে যে দাপুটে ফুটবল আশা করা হয়েছিল, তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। এনজো ফার্নান্দেজ এবং নিকো পাজের গোলে প্রথমার্ধে লিড নিলেও ম্যাচের শেষ দিকে জর্ডান লেফোর্টের গোলে ব্যবধান কমায় মৌরিতানিয়া। পুরো ম্যাচ জুড়েই আর্জেন্টিনার খেলায় ছিল না সেই পরিচিত গতি আর সমন্বয়।

পুরো দলের ব্যর্থতার মধ্যেও উজ্জ্বল ছিলেন তরুণ নিকো পাজ। ইতালির কোমোতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই তরুণ ফ্রি-কিক থেকে এক অসাধারণ গোল করে নিজের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছেন। গোলটি তার কাছে অন্য কারণেও গুরুত্বপূর্ণ। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে প্রথম গোল বলে কথা! অন্যদিকে এনজো ফার্নান্দেজ আবারও বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি কেন এই দলের অন্যতম সেরা ভরসা। আক্রমণে উঠে এসে গোল করা থেকে শুরু করে রক্ষণে সাহায্য করা সবখানেই ছিলেন তিনি।

সবাই অপেক্ষায় ছিল লিওনেল মেসির ম্যাজিকের। দ্বিতীয়ার্ধে নিকো পাজের জায়গায় তিনি মাঠে নামলেও বেশ নির্লিপ্ত দেখা গেছে তাকে। মৌরিতানিয়ার জমাট রক্ষণের সামনে মেসি ও ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানো কোনো বড় সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। এমনকি গ্যালারি ভর্তি দর্শকরাও দ্বিতীয়ার্ধের ম্যাড়ম্যাড়ে ফুটবলে সেভাবে উদ্দীপ্ত হতে পারেনি।

ম্যাচে স্কালোনিকে ৪-৪-২ ফরমেশন থেকে দ্রুত ৪-১-৪-১ ফরমেশনে ফিরতে দেখা গেছে। বিশেষ করে মিডফিল্ডে অ্যালেক্সিস ম্যাকঅ্যালিস্টার এবং এনজো ফার্নান্দেজের জুটিকেই তিনি বিশ্বকাপের মূল অস্ত্র হিসেবে দেখছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে রক্ষণে মার্কোস সেনেসি ও মার্কোস আকুনিয়ার দুর্বলতা এবং প্রতিপক্ষের প্রতিআক্রমণ সামলাতে হিমশিম খাওয়ার বিষয়টি দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পারফরম্যান্স নিয়ে স্কালোনি বলেছেন ‘আমরা ভালো ম্যাচ খেলিনি, এটা আমার কাছে পরিষ্কার। প্রথমার্ধ হোক বা দ্বিতীয়ার্ধ দল কোনো মুহূর্তেই ভালো ছিল না। এই দল এর চেয়ে অনেক ভালো খেলার ক্ষমতা রাখে।’ দ্বিতীয়ার্ধে খেলোয়াড়রা গা ভাসিয়ে দিয়েছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কোনো নির্দিষ্ট সময় নয়, পুরো ম্যাচেই দলের ছন্দ ছিল না। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের কথায় পরিষ্কার কেমন খেলেছে আর্জেন্টিনা, ‘ভাগ্য ভালো যে ম্যাচটা বাতিল হয়েছে। আমরা যেভাবে খেলেছি, তাতে স্পেনের বিপক্ষে থাকলে আজ হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হতো। প্রীতি ম্যাচগুলোর মধ্যে এটি আমাদের খেলা অন্যতম বাজে ম্যাচ। আমাদের খেলায় তীব্রতা এবং গতির অভাব ছিল। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দিলে আমাদের আরও ভালো করতে হবে।’

আগামী ৩১ মার্চ আরেক আফ্রিকান দল জাম্বিয়ার সঙ্গে লা বোমবোনে রাতেই আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা।