বারবার বলছিল মেয়েকে দেখে রাখিও

উঠোনে বসে মুখে কাপড় দিয়ে কান্নাকাটি করছিলেন টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত গাইবান্ধার নিজপাড়া গ্রামের সুলতানের স্ত্রী শামসুন্নাহার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এবার ঈদে বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় লোকটাকে (সুলতান) অন্য রকম লেগেছে। এর আগে বাড়ি থেকে কোথাও গেলে এমন করেনি। এবার যাওয়ার সময় রাস্তা থেকে বারবার ফিরে এসে দেখে যায় মেয়েকে। আর আমাকে বলে, মেয়েকে দেখে রাখিও। তুমিও ভালো থাকিও। এই কথা যে শেষ কথা হবে। কে জানত। আমার একমাত্র মেয়েটা এতিম হয়ে গেল।’

গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রাম। গতকাল শনিবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাম জুড়ে চলছে শোকের মাতম। নিহত সুলতান মিয়ার বাড়িতে চলছে স্বজনদের আহাজারি। আশপাশের লোকজন স্বজনদের সান্ত¡না দিচ্ছেন। সুলতান মিয়ার বাবা আজিজুর রহমান ও মা শাহানা বেগম পাশাপাশি বসে কান্না করছিলেন।

নিহত সুলতানের মা শাহানা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলেটাকে বলেছিলাম এলাকাতে কাজ কর, চাকরি করতে যেতে নিষেধ করেছিলাম। চাকরি করতে না গেলে আমার ছেলেটা আজ মরত না।’

বাবা আজিজুর রহমান বলেন, ‘ছেলেটা চাকরি করে প্রতি মাসে টাকা পাঠাত। সেই টাকায় সংসার চলত। এখন কে টাকা পাঠাবে। সুলতানের তিন বছরের মেয়ে নাজিফা শুধু বাবাকে খুঁজছে। এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে। এখনো বুঝতে পারছে না, পৃথিবী থেকে তার বাবা চিরতরে চলে গেছে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহাদাৎ হোসেন বলেন, শনিবার সকালে লাশ বাড়িতে আনা হয়। জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন হয়েছে। এর আগে এই গ্রামে একসঙ্গে এতগুলো মানুষের কবর দেওয়া হয়নি।

গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ধলাটেংগর এলাকায় পৌঁছালে বাসটির তেল ফুরিয়ে যায়। তখন বাসটি মহাসড়কের পাশে থেমে যায়। এ সময় বাসের কয়েকজন যাত্রী নিচে নেমে পাশের রেললাইনে বসেছিলেন। ঠিক তখনই উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ট্রেনে কাটা পড়ে সুলতানসহ পাঁচজন নিহত হন।