নরসিংদী জেলার পলাশ ও মাধবদী উপজেলায় পৃথক ঘটনায় পানিতে ডুবে এক কলেজ শিক্ষার্থী ও এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দুই স্থান থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। মারা যাওয়াদের মধ্যে একজন পলাশ উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের জয়পুরা গ্রামের ইউসুফ মোল্লার ছেলে ইয়াছির ইবনে সিহাব (১৯)। অন্যজন মাধবদী উপজেলার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের ফজুরকান্দি কান্দাপাড়া এলাকার মো. শাহ আলম মোল্লার মেয়ে মোসা. মেঘলা আক্তার (১২)। ইয়াছির নরসিংদী আইডিয়াল কলেজের একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল দুপুরে ইয়াছির ইবনে সিহাব এলাকার কয়েকজন ছোট ভাইয়ের সঙ্গে জয়পুরা গ্রামের একটি বিলে গোসল করতে নামেন। গোসলের একপর্যায়ে তিনি গভীর পানিতে তলিয়ে যান। সঙ্গীরা পাড়ে উঠে স্থানীয়দের জানালে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। প্রায় চার ঘণ্টা চেষ্টার পর বিকেলে বিলের গভীর পানি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
একই দিন দুপুরে মাধবদী উপজেলার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের ফজুরকান্দি কান্দাপাড়ায় মেঘলা আক্তার তিন বান্ধবীকে নিয়ে স্থানীয় ‘বালুর পুকুর’ পাড়ে টিকটক ভিডিও ধারণ করতে যান। এ সময় অসাবধানতাবশত তার পা পিছলে পুকুরে পড়ে যান। প্রায় ২০ ফুট গভীর ওই পুকুর থেকে স্থানীয়দের ৯৯৯-এ ফোনের ভিত্তিতে মাধবদী ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর বিকেল পৌনে ৫টায় তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে মরদেহ তার খালার কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহত মেঘলার বাবা মো. শাহ আলম মোল্লা বর্তমানে প্রবাসে আছেন।
মাধবদী ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. রায়হান বলেন, ‘৯৯৯-এ খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজাখুঁজি করে পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার করি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, টিকটক ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে এ ঘটনা ঘটেছে। পরে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’
পলাশ থানার ওসি শাহেদ আল মামুন জানান, সিহাবের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুসারে, গভীর পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।