কুমিল্লার পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে গত ২১ মার্চ সংঘটিত ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে জেলা প্রশাসন গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। ১১ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে ৬ জন গেটম্যানসহ মোট ১০ জনের সরাসরি দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের কাছে তদন্ত প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর সাদিক চৌধুরী। প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার কারণ ও সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পেছনে অন্তত ১০ জন ব্যক্তির গাফিলতি ছিল। এর মধ্যে পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ের ৪ জন এবং বিজয়পুর লেভেল ক্রসিংয়ের ২ জনসহ মোট ৬ জন গেটম্যান রয়েছেন। এছাড়া লালমাই রেলস্টেশনের সহকারী রেলস্টেশন মাস্টার, সংশ্লিষ্ট ট্রেনের ২ জন লোকোমাস্টার এবং বাস চালকের অবহেলার বিষয়টি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে রেল কর্তৃপক্ষ এবং সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের মধ্যে চরম সমন্বয়হীনতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাসের মালিকের পক্ষ থেকে দেওয়া জবানবন্দিও কমিটির কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি।
তদন্ত কমিটির প্রধান মো. জাফর সাদিক চৌধুরী জানান, তদন্তে অন্তত ৬টি বড় ধরনের ব্যত্যয় লক্ষ্য করা গেছে। আমরা দুর্ঘটনার কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রতিবেদনে মোট ৮টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছি।
গত ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের রাতে পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে চলন্ত ট্রেনের সাথে যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত ও ১০ জন আহত হন। ঘটনার পর আহত এক যাত্রী বাদী হয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানায় দুই গেটম্যানকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদনটি ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং রেল মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।