যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে : ইরান

ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মজিদ ইবনে রেজা তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বলেছেন, তেহরান ‘আগ্রাসনকারীদের শাস্তি দেওয়া, প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি রোধে’ কাজ চালিয়ে যাবে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এ তথ্য জানিয়ে বলেছে তেহরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব দাবি করা হয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় জ্বালানির বিশ্ববাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সোমবারও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। পাশাপাশি লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত অবকাঠামোতেও হামলা চালিয়েছে তারা। তবে ইসরায়েলও স্বস্তিতে নেই। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও ইসরায়েলে রকেট হামলা বাড়িয়েছে।

একই সঙ্গে ইয়েমেন থেকে ইরান-সমর্থিত হুতিরা প্রথমবারের মতো ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এক মাস আগে যুদ্ধের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি ও সেনা অবস্থানকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করছিল ইরান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানিক্ষেত্রের মতো বেসামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। যুদ্ধের পরিসরও বেড়েছে। সেটি এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ছড়িয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে বিশ্বের অর্থনীতিকে চাপে ফেলা এ যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক উদ্যোগও চলছে। পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গতকাল সোমবার ইসলামাবাদে বৈঠক করেছেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানকে সরাসরি আলোচনায় বসানো তাঁদের লক্ষ্য। গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘সরাসরি ও পরোক্ষভাবে’ আলোচনা করছে। এদিকে ইসরায়েলে হামলায় ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী যোগ দেওয়ার পর বাব আল-মান্দেব প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি নৌপথও অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাহলে হরমুজ প্রণালির মতো লোহিত সাগর দিয়েও চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ট্রাম্প আলোচনার কথা বলার মধ্যে আবার মধ্যপ্রাচ্যে আরও মার্কিন সেনা পাঠাচ্ছেন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ। তাঁর অভিযোগ, একদিকে ওয়াশিংটন আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে। স্থল অভিযান হলে ইরানও প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাঘের গালিবাফ। তাঁর ভাষায়, তাঁদের ভূখণ্ডে নামলে মার্কিন সেনারা ‘বৃষ্টির মতো’ গুলিবর্ষণের শিকার হবেন।যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতায় মূল দেশ হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদে গতকাল মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বৈঠক করেন। পাকিস্তান জানিয়েছে, একটি ‘ফলপ্রসূ আলোচনার’ আয়োজন করতে যাচ্ছে তারা। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এ আলোচনায় অংশ নিতে রাজি হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।