প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার সংসদ সচিবালয়ের কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল সোমবার দুপুরে তাদের মধ্যে এ সাক্ষাৎ হয়। আলাপ শেষে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে তার কার্যালয়ের দিকে খানিকটা পথ এগিয়ে দেন। সরকারপ্রধানের এই সৌজন্যতা ও শিষ্টাচার দেখে উপস্থিত সবাই প্রশংসা করেন।

সাক্ষাতের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি সৌজন্য সাক্ষাৎ। তবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সাক্ষাতের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

গতকাল বেলা ১২টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের জানাজার নামাজ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আদায় করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা। জানাজা শেষে দুই নেতা একসঙ্গে হেঁটে সংসদ ভবনের দিকে এগোচ্ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তখন প্রধানমন্ত্রী তাকে সংসদ সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, সাক্ষাৎটি ছিল সংক্ষিপ্ত। দুই নেতা প্রায় ২০ মিনিট কথা বলেন। আলোচনা শেষে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর সংসদ সচিবালয়ের কার্যালয় ত্যাগ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে কার্যালয়ের দিকে খানিকটা পথ এগিয়ে দেন।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে যথাযথ সম্মান ও সৌজন্যতা দেখিয়ে থাকেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এবং বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর এই সৌজন্যতা দেখে সাধারণ মানুষ মুগ্ধ হয়েছেন। আজও বিরোধীদলীয় নেতাকে কার্যালয়ের দিকে এগিয়ে দিয়ে তিনি তার স্বাভাবিক সৌজন্যতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।

বিকেলে বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সাক্ষাতের ছবিসহ ‘প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যতা, বিরোধীদলীয় নেতার সাক্ষাৎ’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। ছবিতে দুই নেতার সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেও দেখা যায়।

পোস্টে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আজ (সোমবার) দুপুরে তার সংসদ সচিবালয় কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে তার কার্যালয়ে স্বাগত জানান। আলাপ শেষে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে তার সংসদ সচিবালয়ের কার্যালয়ের দিকে খানিকটা পথ এগিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সৌজন্যতা ও শিষ্টাচার দেখে উপস্থিত সবাই প্রশংসা করেন।’

বিএনপির মিডিয়া সেলের পেজে প্রকাশিত ওই পোস্টে আরও জানানো হয়, ‘আজ (সোমবার) দুপুর ১২টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের জানাজার নামাজে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা। গত শনিবার সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মারা যান দিলারা হাফিজ। তিনি একসময় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ছিলেন।’

পোস্টে আরও বলা হয়, ‘দিলারা হাফিজের জানাজা শেষে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা একসঙ্গে হেঁটে সংসদ ভবনের দিকে এগোচ্ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে শফিকুর রহমানকে আমন্ত্রণ জানান।’