আলোচনার খবর ভুয়া, সাফ জানাল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা চলছে—এমন দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার যে দাবি করা হচ্ছে, বাস্তবে তার কোনো ভিত্তি নেই।

সোমবার (৩০ মার্চ) এক বিবৃতিতে বাঘাই স্পষ্ট করেন, ইরান প্রতিদিন এই বিষয়টি পরিষ্কার করছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি আলোচনা হচ্ছে না। এর আগে মার্কিন সূত্রগুলো দাবি করেছিল, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ফলপ্রসূ হচ্ছে এবং ইরান ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫টি পয়েন্ট বা শর্তের অধিকাংশ মেনে নিয়েছে।

ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কিছু বার্তার আদান-প্রদান হলেও যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫টি শর্তকে তারা ‘নন-স্টার্টার’ বা আলোচনার অযোগ্য বলে মনে করে। তেহরানের ভাষ্যমতে, এই চরমপন্থী দাবিগুলো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। কারণ এগুলো দেশের জাতীয় অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী। বিশেষ করে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার মতো বিষয়গুলো এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৫টি পাল্টা দাবি পেশ করেছে। তবে ওয়াশিংটন সেগুলোকে একই দৃষ্টিতে দেখছে এবং সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের দেওয়া প্রস্তাবের মধ্যে অন্যতম ছিল পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো সরিয়ে নেওয়া। দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে বর্তমানে বড় ধরনের এক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের বর্তমান মনোযোগ আলোচনার টেবিলে নয়, বরং দেশ রক্ষায়। এরই অংশ হিসেবে তারা ইসরায়েলসহ অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। 

আজ ইরান তাদের ৮৭তম দফার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘোষণা দিয়েছে। বিশেষত এবারের হামলাটি পরিচালনা করেছে ইরানি নৌবাহিনী। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি একটি কঠোর বার্তা। কারণ ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে যুদ্ধের শুরুর দিকেই ইরানি নৌবাহিনীকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এই হামলার মাধ্যমে ইরান মূলত নিজেদের সামরিক সক্ষমতার জানান দিল।

সূত্র: আল-জাজিরা