ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মন্ত্রিসভাকে ‘সাহসী পদক্ষেপ’ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) এক উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রেসিডেন্ট লি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া মূলত বৈদেশিক বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আরও পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিদর্শন এবং বিস্তারিত জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়া তার মোট চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ জ্বালানি তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে থাকে।
প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং বর্তমান এই বৈশ্বিক সংকটকে দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য একটি নতুন সম্ভাবনা হিসেবেও দেখছেন। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি আমাদের আরও টেকসই জ্বালানি নীতির দিকে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধিতে আরও দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেন তিনি।
সংকট মোকাবিলায় দেশটির সরকার এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ মূল্যসীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ‘ন্যাপথা’ রপ্তানির ওপরও বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট লি জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার প্রয়োজনে সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ‘জরুরি অর্থনৈতিক ডিক্রি’ জারি করতে পারে।
এদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা থেকে দেশের সাধারণ ভোক্তা ও শিল্পখাতকে রক্ষা করতে একটি অতিরিক্ত বাজেট তৈরি করছে দেশটির সরকার। সংসদীয় অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী এপ্রিল মাস থেকেই এই অতিরিক্ত বাজেট থেকে অর্থ ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া প্রশাসনের।