১২ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফিরতে মরিয়া ইতালি। কিন্তু আজ্জুরিদের স্বপ্নযাত্রার পথে আজ সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন এমন একজন, যাকে ইতালির ডিফেন্ডাররা চেনেন হাতের তালুর মতো। তিনি আর কেউ নন—বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার এডিন জেকো।
রাতে জেনিকার বিলিনো পোলিয়ে স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের প্লে-অফ ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি এবং স্বাগতিক বসনিয়া।
ইতালির বর্তমান রক্ষণভাগের তিন স্তম্ভ—জিয়ানলুকা মানচিনি, রিকার্ডো কালাফিওরি এবং আলেসান্দ্রো বাস্তোনি; প্রত্যেকেই কোনো না কোনো সময় জেকোর ক্লাব সতীর্থ ছিলেন। ২০১৫-২১ পর্যন্ত রোমায় থাকাকালীন মানচিনি ও কালাফিওরির সাথে খেলেছেন জেকো। এরপর ইন্টার মিলানে গিয়ে বাস্তোনির সাথে জুটি বেঁধেছিলেন তিনি, যার ফলস্বরূপ ২০২৩ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল খেলেছিল ইন্টার।
সতীর্থ হিসেবে জেকোকে কতটা শ্রদ্ধা করেন ইতালির উইঙ্গার ফেদেরিকো দিমার্কো, তা তার কথাতেই স্পষ্ট। তিনি জানান, গত সপ্তাহে ওয়েলসকে হারিয়ে বসনিয়া ফাইনালে ওঠার পর তিনি ব্যক্তিগতভাবে জেকোকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। কিন্তু আজ মাঠে সেই বন্ধুত্ব সরিয়ে রেখে বিশ্বকাপের টিকিট ছিনিয়ে নিতে লড়বেন তারা।
ইতালির দুর্বলতা বনাম জেকোর উচ্চতা
৬ ফুট ৪ ইঞ্চির জেকো শূণ্যে অত্যন্ত শক্তিশালী। ইতালির রক্ষণভাগ যেখানে প্রায়ই পরাস্ত হয়, সেখানেই জেকো তার বড় শক্তির পরিচয় দেন। ওয়েলসের বিপক্ষেও হেডে গোলটি করেছিলেন তিনি, যা ছিল তার ৭৩তম আন্তর্জাতিক গোল। ওয়েলসকে হারানোর পর ইতালির খেলোয়াড়দের উল্লাস করার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এতে বসনিয়ানদের মনে হয়েছে, ইতালি হয়তো তাদের সহজ প্রতিপক্ষ ভাবছে। তবে এই ধারণা উড়িয়ে দিয়ে জেকো সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'আমার পছন্দ ছিল ইতালির বিপক্ষে না খেলা। তবে তারা যদি ওয়েলসে খেলতে ভয় পায়, তবে সমস্যা আছে। তারা হয়তো এই ম্যাচেও ধুঁকবে, কারণ গত দুটি বিশ্বকাপ মিস করার ভয় তাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এর মানে হলো তারা ভীত।'
হারানো প্রজন্ম ও শেষ সুযোগ
ইতালির বর্তমান প্রজন্মের ১৫ বছরের নিচের কোনো কিশোরের স্মৃতিতে নেই আজ্জুরিদের বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা। ২০১৪ সালে উরুগুয়ের কাছে হেরে বিদায় নেওয়াটাই তাদের শেষ বিশ্বকাপ স্মৃতি। ৩২ বছর বয়সী মাত্তেও পলিতানোর মতো অভিজ্ঞদের জন্য এটিই হয়তো শেষ সুযোগ। পলিতানো বলেন, 'আমরা জানি আমরা কিসের জন্য লড়ছি। আমার মতো বয়স্ক খেলোয়াড়দের জন্য এটাই শেষ সুযোগ।'
একাদশ ভাবনা: রেতেগুই না এসপোসিতো?
নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে নজর কেড়েছেন ২০ বছর বয়সী পিও এসপোসিতো। আজ মাতেও রেতেগুইয়ের বদলে মোইজে কিনের সঙ্গী হিসেবে শুরু থেকেই দেখা যেতে পারে এই তরুণ তুর্কিকে। রেফারি হিসেবে থাকবেন ফ্রান্সের ক্লিমেন্ট টার্পিন—যিনি চার বছর আগে নর্থ মেসিডোনিয়ার কাছে ইতালির হারের ম্যাচেও দায়িত্বে ছিলেন।