দুই দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট বৈঠকের সমাপনী দিনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে ছাত্রশিবির মাঠে সক্রিয় থাকবে। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেটকে নস্যাৎ করার চেষ্টা চলছে, যা ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) অনুষ্ঠিত মাসিক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট বৈঠক ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, ২৫টি রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ বর্তমানে বাস্তবায়নে বাধার মুখে পড়েছে এবং এটি স্বাক্ষরকারী দলগুলোর মধ্যেই জিম্মি হয়ে আছে। তিনি দাবি করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে ৬৮.৫৯ শতাংশ মানুষ এই সনদের পক্ষে মত দিয়েছে, যা একটি ঐতিহাসিক জনসমর্থন।
তিনি আরও বলেন, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার অর্থ এই নয় যে জনগণের সরাসরি রায়কে উপেক্ষা করা যাবে। রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাস্তবায়নে সরকারের গড়িমসি জনগণের ম্যান্ডেটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ কমিশন এবং বিচার বিভাগ পৃথক করার মতো মৌলিক সংস্কারগুলো সংশোধন বা রহিত করার চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবারও দলীয়করণের পথে নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বৈঠকে মার্চ মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং এপ্রিল মাসের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি ক্যাম্পাস পরিস্থিতি, ছাত্র সংসদ নির্বাচন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভা থেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জনমত গঠন এবং সরকারের অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।