ময়মনসিংহে বেড়েই চলেছে হামের প্রাদুর্ভাব 

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের প্রকোপ ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২১ শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত তাদের ভর্তি করা হয়। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে এসব শিশুর চিকিৎসা চলছে।

চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ১৪৩ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৬৪ শিশু, চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ৮৪ জনকে।

বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট ৬৪ জনের মধ্যে শূন্য থেকে ৬ মাস বয়সী ১৯ জন, ৭ থেকে ৯ মাস বয়সী ২১ জন, ১০ মাস থেকে ১ বছর বয়সী ১০ জন, ২ থেকে ৫ বছর বয়সী ৯ জন এবং ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী ৫ জন। সেই হিসাবে শূন্য থেকে ৯ মাস বয়সী শিশুর হার বেশি, যারা টিকা পাওয়ার আগেই হামে আক্রান্ত হয়েছে। 

চিকিৎসকদের তথ্যমতে, আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশই ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা। শনাক্ত রোগীদের প্রায় ৮২ শতাংশই এ জেলার। বিশেষ করে সদর ও নগর এলাকায় আক্রান্তের হার বেশি, যা জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে দ্রুত ছড়াচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হামের রোগীদের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল দলের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. মাজহারুল আমিন গণমাধ্যমকে বলেন, মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে হাম উপসর্গের রোগী বাড়তে থাকে। বর্তমানে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ রোগী র‍্যাশ, জ্বর, কাশি, চোখ দিয়ে পানি পড়া ও মুখে ঘা নিয়ে ভর্তি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে মায়ের কাছ থেকে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি না পাওয়া এবং পর্যাপ্ত বুকের দুধ না খাওয়াও সংক্রমণের কারণ হতে পারে।

এদিকে, হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ায় আটতলায় ৬৪ শয্যার একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সেখানে তিনটি মেডিক‌্যাল টিম গঠন করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি অনেক শিশুকে অক্সিজেন ও নেবুলাইজার সহায়তা দিতে হচ্ছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, হাম রোগীদের চিকিৎসায় গত ৩০ মার্চ থেকে হাসপাতালের আটতলার কেবিন এলাকায় ৬৪ শয্যার ‍পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সেখানে তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে চিকিৎসা চলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ২১টি শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। 

ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ফয়সল আহমেদ বলেন, হাম আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৮০ শতাংশই ৯ মাসের নিচে বয়সী। তাদের টিকা নেওয়ার সময় হয়নি। বাকি শিশুদের মধ্যে ১০ শতাংশ এক ডোজ এবং ১০ শতাংশ দুই ডোজ টিকা পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত বছর থেকেই বিভিন্ন টিকার সংকট রয়েছে। বর্তমানে হাম ও বিসিজি ছাড়া অন্য কোনো টিকা মজুত নেই। দীর্ঘ সময় টিকা সরবরাহ না থাকা এবং স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতির কারণে টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল। এর প্রভাব এখন দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরো জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে সংক্রমণ রোধে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের সংক্রমণ থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।