বলিউডের নতুন তারা সারা

বলিউডের বক্স অফিসে নতুন তুফানের নাম ‘ধুরন্ধর ২’। মুক্তির পর থেকেই বিরামহীন তা-বে রীতিমতো তুলোধুনো করে দিচ্ছে অতীতের অনেক রেকর্ড। মুক্তির ১৫ দিনে ছবিটি কেবল বিপুল আয়ই করেনি, বরং নতুন ইতিহাসও গড়েছে। ভারতীয় বক্স অফিসে এমন নজির কোনো হিন্দি ছবির ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। প্রথম সপ্তাহে ছবিটি ভারতীয় বক্স অফিসে ৬৭৪.১৭ কোটি টাকার ব্যবসা করে। এরপর নবম দিনে ধুরন্ধরের আয় ছিল ৪১.৭৫ কোটি টাকা। দশম দিন ও একাদশ দিনে যথাক্রমে ৬২.৮৫ কোটি ও ৬৮.১০ কোটি টাকা আয় করে। দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ দিনে ধুরন্ধর ২-এর সংগ্রহ ছিল ২৫.৩০ কোটি এবং ২৭.৭৫ কোটি টাকা। তবে ১৪ নম্বর দিনে, অর্থাৎ গত বুধবার আয় খানিক কমেছে। ছবি সংগ্রহ করেছে ২০.১০ কোটি টাকা। ১৪ দিনের শেষে সিনেমাটির মোট সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৯২০.১০ কোটি টাকা। এখানেই তৈরি হয়েছে ইতিহাস। এখন পর্যন্ত কোনো হিন্দি ছবি ৯০০ কোটির গণ্ডি পেরোতে পারেনি। সিনেমাটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন রণবীর সিং। তার বিপরীতে অভিনয় করে অনেকটা উড়ে এসে জুড়ে বসার মতো আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছেন তরুণ অভিনেত্রী সারা অর্জুন।

প্রথম কিস্তির মতোই ধুরন্ধরের দ্বিতীয় পর্বেও সাফল্যের জোয়ারে ভাসছেন এই তরুণী। রণবীরের চেয়ে প্রায় অর্ধেক বয়সী সারা এতে অভিনয় করেছেন ইলিয়ানা জামালি চরিত্রে। যদিও শুরুতে সিনেমাটির কাস্টিং নিয়ে কিছুটা জটিলতার সৃষ্টি হয় প্রযোজক-পরিচালকদের মাঝে। পরিচালক আদিত্য ধর এমন একটি নতুন মুখ খুঁজছিলেন যার কোনো শক্তিশালী ব্যাকগ্রাউন্ড নেই এবং যাকে দেখে দর্শকের একদম নতুন মনে হবে। ইয়ালিনা জামালি চরিত্রের জন্য কয়েক হাজার মেয়ে অডিশন দিলেও শেষ পর্যন্ত সারা অর্জুনকেই চূড়ান্ত করা হয়। কাস্টিং ডিরেক্টর বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল এমন একজনকে খুঁজে বের করা, যাকে দেখে মনে হবে সে সত্যিই প্রথমবার এই চরিত্রে নিজেকে উপস্থাপন করেছে। সারার অডিশনের একটি সংলাপ শোনার পরই আমি সেটি পরিচালককে পাঠিয়েছিলাম এবং তিনি তাৎক্ষণিক ইতিবাচক সাড়া দেন। সিনেমাটি মুক্তির আগে রণবীর সিং ও তার চেয়ে বয়সে অনেক ছোট সারার রসায়ন নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছিল। তবে মুক্তির পর তাদের অনবদ্য অভিনয় সেই নিন্দার জবাব দিয়েছে।

তবে সারা যে আদৌ নবাগত নন, তা স্পষ্ট হবে তখনই যখন তার অতীতকে টেনে আনা হবে। সারা হলেন সেই তারকা, যাকে প্রতিনিয়ত নতুনরূপে পর্দায় দেখা গেছে। তাও আবার ভিন্ন ভিন্ন বয়সে, আনকোরা সব অবয়বে। তার বয়স যখন মাত্র দেড় বছর, তখনই পর্দায় দেখা গিয়েছিল একটি বিজ্ঞাপনের সুবাদে। তার বাবা-মা একটি বিপণনকেন্দ্রে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন, তখনই এক বিজ্ঞাপন নির্মাতার চোখে পড়ে ছোট্ট সারাকে। ব্যাস, এরপর আর কোনো কথা নেই, ছোট্ট সেই শিশুটিকে নিয়ে বিজ্ঞাপন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়ে বসেন। সারার বাবা-মা দুজনেই রাজি হয়ে যান। সেই শুরু। এরপর দুই বছর বয়সে আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হয় এই খুদে মডেলকে। দুই বছর বয়স থেকে পর্দার নিয়মিত মুখ হয়ে উঠতে থাকেন সারা। বিজ্ঞাপনের সূত্র ধরেই পরিচালক বিজয়ের হাত ধরে অভিষেক হয় তামিল সিনেমায়। ‘তাকেদেইবা থিরুমাগাল’ ছবির জন্য আলাদা তামিল ভাষা শেখানো হয়েছিল তাকে। তখনই আভাস পাওয়া গিয়েছিল, সারা হতে যাচ্ছেন আগামী দিনের আলোচিত তারকা।