নীতি বদলাচ্ছে ইরান? লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি

লেবানন পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। রাজধানী বৈরুতের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি বাহিনীর একের পর এক বিমান হামলায় জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মাঝে লেবাননে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোতে ইরান-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো হামলা চালাতে পারে বলে জোরালো আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, তারা বৈরুতে হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট হামলা চালাচ্ছে। তবে হামলার তীব্রতা ও ঘনঘন বিস্ফোরণে পুরো শহর এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন দূতাবাস থেকে লেবাননে অবস্থানরত সকল আমেরিকান নাগরিককে দ্রুত বৈরুত ত্যাগের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বিশেষ করে বৈরুতে অবস্থিত স্বনামধন্য আমেরিকান ইউনিভার্সিটি ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই হুমকির বিষয়টি সামনে আসার পর ওই এলাকায় অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সাধারণত প্রতিবেশী দেশগুলোতে রকেট ও মিসাইল হামলা চালালেও লেবাননে সরাসরি মার্কিন স্থাপনায় আঘাত করা থেকে এতদিন বিরত ছিল। এর প্রধান কারণ হলো লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বিশাল জনভিত্তি রয়েছে। তবে এখন যদি সরাসরি মার্কিন সম্পদে হামলা চালানো হয়, তবে তা ইরানের দীর্ঘদিনের নীতিতে এক বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে গণ্য হবে।

এই সম্ভাব্য হামলা লেবানন সংকটকে এক নতুন এবং ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে। ইরান এযাবতকাল লেবাননে তার জনসমর্থন অক্ষুণ্ণ রাখতে দেশটির অভ্যন্তরে বড় ধরনের সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চললেও বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। মার্কিন স্থাপনায় কোনো ধরনের আঘাত এলে লেবানন এই আঞ্চলিক যুদ্ধে পুরোপুরি জড়িয়ে পড়বে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা