বৈশাখী টিভিতে আজ থেকে প্রতি শনি, রবি ও সোমবার রাত ৯.২০ মিনিটে প্রচার হতে যাচ্ছে নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘কিচেন পলিটিক্স’। বৈশাখী টেলিভিশনের নিজস্ব প্রযোজনার নাটকটি রচনা করেছেন অনিকেত এবং পরিচালনায় সাঈদ রিংকু। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছর বিরতির পর আবারও নাটক লেখায় ফিরে এলেন এক সময়ের আলোচিত নাট্যকার অনিকেত। চ্যানেলটির ডেপুটি হেড অব প্রোগ্রাম লিটু সোলায়মানের ব্যবস্থাপনায় নাটকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আছেন টিপু আলম মিলন। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিলারা জামান, মাসুম বাসার, মিলি বাসার, নাবিলা ইসলাম, জয়রাজ, একে আজাদ সেতু, পূর্ণিমা বৃষ্টি, দোলন দে, তানহা ইয়াসমিন, সাদিয়া তানজিম, শিবলী নোমান, ঈষিকা সাকিন, মীর নওফেল আশরাফী জিসান, মিলু চৌধুরী, মোস্তফা রতন, নাসরিন অনু, শাহজাদা সম্রাটসহ আরও অনেকে।
নাটকের গল্প সম্পর্কে জানতে চাইলে নাট্যকার অনিকেত বলেন, একটি একান্নবর্তী পরবারকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে কিচেন পলিটিক্স নাটকের কাহিনি। এটি মূলত একটি সামাজিক স্যাটায়ার গল্প। গল্পের বাবা একজন আদর্শবান রিটায়ার্ড সরকারি কর্মকর্তা। তার তিন ছেলে, স্ত্রী এবং দুই ছেলের বউকে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করেন। ছোট ছেলে অবিবাহিত। তার মেয়ে মুন্নি তার স্বামীর বাড়িতে থাকে। মুন্নির সঙ্গে তার মায়ের খুব ভাব, মুন্নি যা বলে তার মা তা-ই করে। মুন্নি ফোন করে এবং বাড়িতে এসে তার তিন ভাই এবং ভাইয়ের বউদের বিরুদ্ধে মায়ের কান ভারী করে। মাকে সবসময় সে বুদ্ধি দেয় মা যেন তার ছেলের বউদের পিছে লেগে থাকে এবং সবসময় বউদের দোষ ধরে যাতে করে সংসারে সবসময় অশান্তি লেগে থাকে। বড় ছেলে ব্যবসা করে এবং তার বউ একজন গৃহবধূ, যেহেতু তার স্ত্রী সবসময় ঘরেই থাকে তাই মুন্নি ও মায়ের মানসিক চাপগুলো তাকেই বেশি সহ্য করতে হয়। মেজ ছেলে ও তার বউ করপোরেট জব করে। তাদের অফিসে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয় আর ঘরে ফিরলে মা আর মুন্নির জ্বালা হজম করতে হয়। ছোট ছেলে বেকার। সে তার চেয়ে বয়সে বড় বিবাহিত একটি মহিলার সঙ্গে প্রেম করে। তার স্বামী অসুস্থ এবং প্রচুর ধনসম্পদের মালিক। এদিকে মুন্নি তার স্বামীকে বুদ্ধি দেয় ভেজালের ব্যবসা করতে। সে বলে ভেজালের ব্যবসা করলে খুব তাড়াতাড়ি বড়লোক হওয়া যায়। মুন্নি স্বামীকে তার বাসা থেকে বের করে নিয়ে এসে অন্য এলাকায় আলাদা ফ্ল্যাটে থাকে।
মুন্নি চায় না তার স্বামী তার বাবা-মায়ের সঙ্গে কখনো দেখা করুক। মুন্নির এসব আচরণ তার স্বামী একেবারেই পছন্দ করে না, কিন্তু মুখ ফুটে সে কখনই কিছু বলে না। মুন্নি তার নিজের সংসারেও অশান্তি সৃষ্টি করে এবং তার বাবার বাড়িতেও অশান্তি সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে সবাই মিলে মুন্নির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু মুন্নি তার মায়ের মাধ্যমে নানা রকম চালবাজি চালিয়ে যেতে থাকে। এভাবেই এগিয়ে যেতে থাকে কিচেন পলিটিক্স নাটকের কাহিনি।
অনিকেত বলেন, নাটকটি যেহেতু সোশ্যাল স্যাটায়ার, এ কারণে এর প্রতিটা পর্বে থাকবে নতুন নতুন টুইস্ট এবং টানাপড়েন, নানা হাস্যরসের মাধ্যমেই উপস্থাপন করা হবে সেগুলো। নাটকটি যে দর্শকদের কাছে ভালো লাগবে সে ব্যাপারে আমি একশ ভাগ নিশ্চিত।