পাইলসের প্রতিকারে করণীয়

পাইলস (Piles) বা অর্শ হলো একটি স্বাভাবিক রোগ, যা মলদ্বারের ভেতরের বা বাইরের রক্তনালিগুলোর ফোলাজনিত সমস্যা। এর ফলে মলত্যাগের সময় রক্তপাত, ব্যথা বা মলদ্বারে চুলকানি হতে পারে।

পাইলসের প্রকারভেদ

১. অভ্যন্তরীণ পাইলস : মলদ্বারের ভেতরে থাকে। সাধারণত ব্যথা হয় না, তবে রক্তপাত হতে পারে।

২. বাহ্যিক পাইলস : মলদ্বারের বাইরের অংশে ফোলা দেখা যায় এবং এতে ব্যথা বেশি হয়।

পাইলসের কারণ

দীর্ঘ সময় ধরে এক জায়গায় বসে থাকা কোষ্ঠকাঠিন্য বা অতিরিক্ত চাপ দিয়ে মলত্যাগ কম ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়া গর্ভাবস্থা অতিরিক্ত ওজন ঝাঁকুনি বা ভারী কাজ করা

লক্ষণ

মলত্যাগের সময় রক্ত পড়া

লদ্বারে চুলকানি বা জ¦ালা

মলদ্বার ফোলা বা গাঁটের মতো অংশ অনুভব হওয়া

ব্যথা, বিশেষ করে বসার সময়

পাইলসের নিরাময় ও প্রতিকার:

বাসায় করণীয় : পাইলস রোগীর আড়াই থেকে তিন লিটার পানি পান করতে হবে। নিয়মিত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা জরুরি। দীর্ঘ সময়  একই জায়গায় বসে থাকা এড়াতে হবে। প্রতিদিন একই সময়ে মলত্যাগের অভ্যাস করা। পাইলসের সমস্যা হলে গরম পানিতে সিটজ বাথ নেওয়া।

ওষুধ ও চিকিৎসা

ব্যথানাশক ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ মল নরম করার ওষুধ মলদ্বারে ব্যবহারের জন্য কিছু ওষুধ বা ক্রিম ব্যবহার করা। প্রচলিত ক্রিম হলো যেমন হেমোরয়েডাল ক্রিম।

চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা পদ্ধতি

রাবার ব্যান্ড লিগেশন ইনফ্রারেড কুগুলেশন সার্জারি লেজার।

প্রাথমিক পর্যায়ে ওষুধ ও জীবনযাপনের পরিবর্তনের পরামর্শ দেন চিকিৎসক। ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান, এবং নিয়মিত ব্যায়াম অনেক ক্ষেত্রে পাইলস নিয়ন্ত্রণে রাখে। পাশাপাশি কিছু বিশেষ মলম বা সাপোজিটরি ব্যবহারেও উপশম পাওয়া যায়।

তবে সমস্যা একটু বেশি হলে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখে। এর মধ্যে অন্যতম হলো রাবার ব্যান্ড লিগেশন  যেখানে পাইলসের গোড়ায় একটি ছোট ব্যান্ড লাগিয়ে রক্ত চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। কয়েকদিনের মধ্যেই এটি শুকিয়ে ঝরে পড়ে। একইভাবে লেজার চিকিৎসাও এখন বেশ জনপ্রিয়। এতে রক্তপাত কম হয়, ব্যথাও তুলনামূলক কম, আর রোগী দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।

এছাড়া ইনফ্রারেড কোয়াগুলেশন ও স্ক্লেরোথেরাপির মতো পদ্ধতিগুলো ছোট ও মাঝারি পাইলসের ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর। এগুলোতে বড় কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই চিকিৎসা সম্পন্ন হয়। আর জটিল ক্ষেত্রে স্ট্যাপলার সার্জারি বা ওপেন সার্জারির মতো উন্নত অপারেশন পদ্ধতি রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দেয়। পাইলসের ক্ষেত্রে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুরুতেই ব্যবস্থা নিলে বড় ধরনের অপারেশনের প্রয়োজন পড়ে না এবং জটিলতাও এড়ানো যায়।